বিজ্ঞাপন
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার চাড়োল ইউনিয়নের কালিতলা মধুপুর গ্রামে বৃহস্পতিবার দুপুরে বিদ্যুৎ বিলের রিডিং সংগ্রহ করতে যান ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বালিয়াডাঙ্গী জোনাল অফিসের মিটার রিডার সবুজ। এ সময় আকবর আলী নামের এক ক্ষুব্ধ গ্রাহক তাকে আটকে রাখেন। মুহূর্তের মধ্যেই তার সঙ্গে গ্রামের আরও শতাধিক ভুক্তভোগী গ্রাহক জড়ো হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে শুরু করেন। খবর পেয়ে থানা পুলিশ এবং পল্লী বিদ্যুতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা চালালে উভয় পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় বাকবিতণ্ডা হয়। দীর্ঘ ৫ ঘণ্টা টানটান উত্তেজনার পর দাবি মেনে নেওয়ার শর্তে রাতে তাকে মুক্ত করা হয়।
গ্রামবাসীর অভিযোগ, এমন অতিরিক্ত ও অযৌক্তিক বিল শুধু আকবর আলীর নয়, কালিতলা মধুপুর গ্রামের শতাধিক পরিবারে এসেছে। অভিযোগ সংশোধন করতে পল্লী বিদ্যুতের কার্যালয়ে একাধিকবার ধরনা দিয়েও কোনো সুরাহা মেলেনি। অনেক গ্রাহক সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ভয়ে অতিরিক্ত বিল পরিশোধ করতে বাধ্য হয়েছেন, আবার অনেকেই নতুন বিলের জন্য কর্মীদের অপেক্ষায় ছিলেন।
ভুক্তভোগী আকবর আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “গত মাসে আমার মিটারে বিদ্যুৎ খরচ হয়েছিল মাত্র ৮০ ইউনিট, অথচ এ মাসে কোনো কারণ ছাড়াই তা ৩৭০ ইউনিট দেখানো হয়েছে। আমরা অতিরিক্ত কোনো লাইট বা ফ্যান ব্যবহার করিনি। এই অন্যায় বিলের জবাব পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকেই দিতে হবে।” একই গ্রামের মাহফুজ আলম জানান, আগের মাসে ২০০ টাকা বিল এলেও চলতি মাসে এসেছে ১ হাজার ৯০০ টাকা। সাধারণ গ্রাহকদের ওপর এমন ভুতুড়ে বিলের বোঝা অন্যায়ভাবে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, দেশে বিভিন্ন সময় মাঠপর্যায়ে মিটার রিডারদের সশরীরে না গিয়ে অফিসে বা ঘরে বসে অনুমানের ভিত্তিতে ‘গড় বিল’ তৈরির অভিযোগ নতুন নয়। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের স্বচ্ছতা নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মাঝেই এই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটল।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি বালিয়াডাঙ্গী জোনাল অফিসের এনফোর্সমেন্ট কো-অর্ডিনেটর নির্মল রায় জানান, আগের মিটার রিডার মাঠে না গিয়ে ঘরে বসে মিটার রিডিং তৈরি করেছিলেন। অনিয়মের অভিযোগে তাকে বরখাস্ত করে নতুন কর্মীকে পাঠানো হলে গ্রামবাসী তাকে অবরুদ্ধ করে। তিনি আশ্বস্ত করেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে প্রকৃত মিটার রিডিং পরীক্ষা করে অতিরিক্ত বিলগুলো সমন্বয় করা হবে এবং ত্রুটিপূর্ণ মিটার বদলে দেওয়া হবে।
এ বিষয়ে বালিয়াডাঙ্গী জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. হামিদুল হক বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত। গ্রাহকদের বিভ্রান্তি দূর করতে এবং বিল সংক্রান্ত অসঙ্গতিগুলোর স্থায়ী সমাধানে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...