বিজ্ঞাপন
দলের পরিচয়ে কেউ চাঁদাবাজি বা মাদক ব্যবসায় জড়িত হলে তাকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় ঝালকাঠি জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলার আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং সরকারি উন্নয়ন কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয় বিষয়ক বিশেষ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর বলেন, জেলার আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখা এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। শুধু সভা করে সময় নষ্ট করলে চলবে না। প্রতিটি সভায় নেওয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দুর্নীতি প্রতিরোধেও সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সরকারি কর্মকর্তা হোক কিংবা দলের কোনো নেতাকর্মী—কেউ দুর্নীতি, চাঁদাবাজি বা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত হলে ছাড় দেওয়া হবে না। দলের পরিচয়ে কেউ চাঁদাবাজি কিংবা মাদক ব্যবসা করতে পারবে না। পুলিশকে নির্ভয়ে এসব অপরাধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের আমলে সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়েছিল। বর্তমান সরকারের সময়ে দুর্নীতিকে কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। গত সাত মাসে সরকার দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেয়নি উল্লেখ করে তিনি সরকারি কর্মকর্তাদের আরও কঠোর ও দায়িত্বশীল হওয়ার পরামর্শ দেন।
মাদক নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে তিনি বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নির্ভর করলে হবে না। সমাজের প্রত্যেক শ্রেণি-পেশার মানুষকে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। পুলিশকে ভয়ভীতি ছাড়াই চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করতে হবে। এ সময় সন্ধ্যার পর স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের রাস্তায় অহেতুক আড্ডা নিয়ন্ত্রণের ওপরও গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি প্রশাসনের কর্মকর্তাদের রাস্তায় নেমে শিক্ষার্থীদের বোঝানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, সন্ধ্যার পর শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে থাকা উচিত। তাদের পড়াশোনায় মনোযোগী করতে প্রশাসন, শিক্ষক, অভিভাবক ও সমাজের সবাইকে ভূমিকা রাখতে হবে।
জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিনের সভাপতিত্বে সভায় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন ঝালকাঠি-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল। আরও বক্তব্য দেন জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাডভোকেট মো. শাহাদাৎ হোসেন, পুলিশ সুপার মেরিন সুলতানা, পৌর প্রশাসক জুলিয়া সুকায়না, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. কাওছার হোসেন, সিভিল সার্জন ডা. মো. হুমায়ুন কবির, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক মো. মোস্তফা কামাল মন্টু, সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মাসুম ইফতেখার, ঝালকাঠি প্রেসক্লাব সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আককাস সিকদার, সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান পারভেজসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা।
এ ছাড়া সভায় কাঠালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মকবুল হোসেন, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আমান উল্লাহ সরকার, রাজাপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মতিয়ার রহমান খান বাদল, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবু সাঈদ, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল-মামুন, জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সাকিনা আলম লিজা, জজ আদালতের জিপি অ্যাডভোকেট মাহাবুব আলম কবীর, জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি টিপু সুলতান, প্রফেসর ইলিয়াস বেপারী, প্রফেসর জাহাঙ্গির হোসেনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...