Logo Logo

‘ডোর-টু-ডোর’ লাইভ ভেরিফিকেশন

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে ১,৪৭২ মৃত ভাতাভোগী শনাক্ত


Splash Image

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে স্বচ্ছতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়। বাড়ি বাড়ি গিয়ে সরাসরি যাচাই বা ‘ডোর-টু-ডোর’ লাইভ ভেরিফিকেশন কার্যক্রমের মাধ্যমে ১ হাজার ৪৭২ জন মৃত ভাতাভোগীকে শনাক্ত করা হয়েছে। এ উদ্যোগের ফলে সরকারি অর্থের অপচয় রোধের পাশাপাশি প্রকৃত ও যোগ্য দুস্থ মানুষের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার পথ আরও সুদৃঢ় হয়েছে।


বিজ্ঞাপন


সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বয়স্ক ভাতা বাস্তবায়ন নীতিমালা-২০১৩, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতা বাস্তবায়ন নীতিমালা-২০২৪ এবং প্রতিবন্ধী ভাতা ও শিক্ষা উপবৃত্তি কার্যক্রম নীতিমালা-২০২৫-এর বিধান অনুসরণ করে এ যাচাই-বাছাই কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

গত ৩ জুন থেকে ৯ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত ইউনিয়ন কমিটির সার্বিক সহযোগিতায় মাঠপর্যায়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভাতাভোগীদের বর্তমান অবস্থা নিবিড়ভাবে যাচাই করা হয়। যাচাই শেষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের স্বাক্ষরসংবলিত তালিকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়।

পরবর্তী সময়ে নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুসরণ করে গত ৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত উপজেলা ভাতা বাস্তবায়ন কমিটির সভায় শনাক্ত হওয়া মৃত ভাতাভোগীদের ভাতা স্থায়ীভাবে বন্ধ রাখা এবং চলতি ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রথম কিস্তির পে-রোল প্রদান না করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু ভুয়া ফটোকার্ড ও অপপ্রচারের মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানোর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে। এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, চাঁদখানা ইউনিয়নের তালিকায় ‘মোহনী বালা’ নামে কোনো ভাতাভোগী নেই। অন্যদিকে, আব্দুল মজিদের মৃত্যুর খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নিয়ম অনুযায়ী তাঁর ভাতা স্থগিত করা হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, “সরকার সামাজিক নিরাপত্তা খাতের মাধ্যমে দুস্থ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বদ্ধপরিকর। এই সহায়তা যেন কোনোভাবেই অপপ্রয়োগ বা অনিয়মের শিকার না হয়, সে লক্ষ্যেই আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের এই ডোর-টু-ডোর যাচাই কার্যক্রম ভবিষ্যতে ভাতা বিতরণে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে।”

প্রশাসনের এ ধরনের কার্যকর ও দায়িত্বশীল তদারকিকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সুধী সমাজ ও সচেতন নাগরিকরা। তাঁদের মতে, নিয়মিত যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে অনিয়ম কমিয়ে প্রকৃত উপকারভোগীদের অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব।

জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মাছুম আলী জানিয়েছেন, কিশোরগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের এ সময়োপযোগী ও দায়িত্বশীল উদ্যোগ শুধু স্থানীয় পর্যায়েই নয়, বরং দেশব্যাপী সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সঠিক বাস্তবায়নে একটি রোল মডেল হিসেবে কাজ করতে পারে।

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অর্থ যথাযথভাবে প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং সরকারি সহায়তার অপব্যবহার রোধে কিশোরগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের এ উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...