বিজ্ঞাপন
এ ঘটনায় হত্যা ও অটোরিকশা ছিনতাইয়ের অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. রিয়াদ হোসেন (১৯), গাবতলী উপজেলার চক মুড়িয়া গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে এবং রেহেনা বেগম (৫৯), শেরপুর উপজেলার রানবীরবালা ঘাটপাড় এলাকার মৃত ফরিদ প্রামাণিকের স্ত্রী।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত আসাদুল ইসলাম শেরপুর উপজেলার কাফুরা গ্রামের মো. আয়েজ উদ্দিনের ছেলে। শারীরিক প্রতিবন্ধী আসাদুল অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। গত ২৪ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে খাবার শেষে অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। এরপর নির্ধারিত সময়ে বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়স্বজন ও সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। তাঁর সন্ধান না পেয়ে পরদিন ২৫ অক্টোবর মা আঞ্জুয়ারা বেগম শেরপুর থানায় একটি নিখোঁজ সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
পরবর্তীতে ২৭ অক্টোবর দুপুর ২টার দিকে শেরপুর থানাধীন শাহবন্দেগী ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর নামাপাড়া গ্রামসংলগ্ন করতোয়া নদীতে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির মরদেহ ভাসতে থাকার খবর পায় পুলিশ। খবর পেয়ে নিহতের মা, বড় ভাই ও ভাবি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিহিত জামাকাপড় দেখে মরদেহটি আসাদুলের বলে শনাক্ত করেন।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, ২৪ অক্টোবর দুপুর থেকে ২৭ অক্টোবর দুপুরের মধ্যে কোনো এক সময় অজ্ঞাতনামা আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আসাদুলকে গলা কেটে হত্যা করে তাঁর সঙ্গে থাকা নীল রঙের অটোরিকশাটি ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে শেরপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্তে আধুনিক প্রযুক্তি ও বিশ্বস্ত সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে ১ নভেম্বর ভোর সাড়ে ৬টার দিকে গাবতলী থানাধীন চক মুড়িয়া গ্রাম থেকে রিয়াদ হোসেন ও রেহেনা বেগমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তার রিয়াদের দেখানো মতে শেরপুর উপজেলার রানবীরবালা ঘাটপাড় এলাকায় করতোয়া নদী থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ধারালো ফল কাটার চাকু উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। পরে আসামি রিয়াদ আলী বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা বিস্তারিত জানতে গ্রেপ্তার আসামিদের পুলিশ রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।
শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. একরামুল হোসাইন, পিপিএম জানান, পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ, পিপিএমের নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শেরপুর সার্কেল) শামস-ই-তাবরীজের তত্ত্বাবধানে এবং তাঁর নেতৃত্বে মামলাটির তদন্ত চলছে। তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত আছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...