Logo Logo

ঝিনাইদহ যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরে অনুদান বিতরণ ও বদলিতে অনিয়মের অভিযোগ


Splash Image

ঝিনাইদহ জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরে যুব সংগঠনগুলোর জন্য বরাদ্দকৃত বিশেষ অনুদান বিতরণকে কেন্দ্র করে অর্থ আত্মসাৎ ও অনৈতিক আর্থিক লেনদেনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, সরকারি এই অনুদানের অর্থ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাসে বিভিন্ন সংগঠনের কাছ থেকে কৌশলে অগ্রিম টাকা নেওয়া হয়েছে। এমনকি পরবর্তী সময়ে যুব দিবসের অনুষ্ঠান ব্যয়, ক্রেস্ট প্রদানসহ নানা অজুহাতেও অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।


বিজ্ঞাপন


হরিণাকুণ্ডুর একটি নারী উন্নয়ন সংগঠনের উদ্যোক্তা মাজেদা খাতুন অভিযোগ করে জানান, তাঁর সংগঠনের অনুকূলে বিশেষ অনুদানের অর্থ মঞ্জুরের প্রক্রিয়া চলাকালে প্রথমে ১০ হাজার টাকা অগ্রিম নেওয়া হয়। পরবর্তীতে যুব দিবস উদযাপনের অনুষ্ঠান বাবদ আরও ৫ হাজার টাকা এবং ক্রেস্ট ও অন্যান্য খাতের কথা বলে আরও ১ হাজার টাকাসহ মোট ১৬ হাজার টাকা আদায় করা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরও এক সংগঠনের প্রতিনিধিও একই ধরনের আর্থিক অনিয়মের কথা জানিয়েছেন।

অনুদানপ্রাপ্ত ও আবেদনকারী একাধিক সংগঠনের প্রতিনিধির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও বর্তমান অনুদানের অর্থ আটকে যাওয়ার কিংবা ভবিষ্যতে সরকারি সহায়তা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় অনেকেই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে রাজি হননি।

এই নতুন অভিযোগের পাশাপাশি ঝিনাইদহ জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বিভিন্ন পূর্ববর্তী সরকারি বরাদ্দ, প্রশিক্ষণ ও প্রকল্প বাস্তবায়নের অর্থ ব্যয় নিয়ে অতীতের নানা সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। অতীতে আন্তর্জাতিক যুব দিবস উদযাপনের সরকারি বরাদ্দ যথাযথভাবে খরচ না করা, বায়োগ্যাস প্লান্ট নির্মাণ প্রশিক্ষণ, লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। এছাড়া খাল খনন বা পরিষ্কার কার্যক্রম, যানবাহন প্রশিক্ষণ প্রকল্পের জ্বালানি ও মেরামত খাতের খরচ এবং প্রশিক্ষণের বাস্তব কার্যকারিতা নিয়েও নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল।

সে সময় পূর্বের অভিযোগের বিষয়ে উপপরিচালক বিলকিস আফরোজ সমস্ত অনিয়ম অস্বীকার করে যাবতীয় কাজ সরকারি নিয়মনীতি মেনে পরিচালনার দাবি করেছিলেন।

এদিকে প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনৈতিক লেনদেনের মাধ্যমে কর্মকর্তা বদলির অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, চাকরির মেয়াদ মাত্র ছয় মাস অবশিষ্ট থাকা সত্ত্বেও ঝিনাইদহের শৈলকুপার বাসিন্দা এবং হরিণাকুণ্ডু উপজেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনিসুর রহমানকে তাঁর নিজ এলাকা থেকে প্রায় ৬২০ কিলোমিটার দূরে কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলায় বদলি করা হয়েছে। এই বদলি প্রক্রিয়ার নেপথ্যে প্রায় ৫ লাখ টাকার অনৈতিক লেনদেন হয়েছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি।

দপ্তরসংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর মতে, বিভিন্ন দাপ্তরিক কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং আর্থিক অনিয়মের বিষয়ে প্রশ্ন তোলায় কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনিসুর রহমান কর্তৃপক্ষের বিরাগভাজন হন এবং এরই জেরে তাঁকে দূরবর্তী এলাকায় বদলি করা হয়েছে। তবে বদলির সঙ্গে এসব অভিযোগের প্রত্যক্ষ সংযোগ রয়েছে কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্ত ব্যতিরেকে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

বিশেষ অনুদান বিতরণ, বিভিন্ন সংগঠনের কাছ থেকে অর্থ আদায়, সরকারি প্রকল্পের অর্থ ব্যয় এবং কর্মকর্তা বদলি সংক্রান্ত এসব নতুন অভিযোগের বিষয়ে ঝিনাইদহ জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক বিলকিস আফরোজের বক্তব্য নেওয়ার জন্য তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরবর্তীতেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগকারীরা বিশেষ অনুদান বিতরণের পুরো প্রক্রিয়া, সংগঠনগুলো থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ, সরকারি প্রকল্পের ব্যয় এবং কর্মকর্তা বদলির ঘটনাগুলোর সুনির্দিষ্ট ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পাশাপাশি প্রয়োজনে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে বিষয়টি যাচাই করে কোনো অনিয়ম বা অনৈতিক লেনদেনের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

উল্লেখ্য, প্রতিবেদনে উল্লিখিত বিষয়গুলোর মধ্যে কিছু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সংগঠনের অভিযোগ এবং কিছু পূর্বে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে তুলে ধরা হয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা একমাত্র নিরপেক্ষ ও দাপ্তরিক তদন্তের মাধ্যমেই নির্ধারিত হতে পারে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...