বিজ্ঞাপন
সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচির কারণে প্রায় দুই ঘণ্টা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেন আন্দোলনকারীরা।
যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের (উই কেয়ার ফেজ-১, এন-৭) আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও শ্রমিক-কর্মচারীদের অভিযোগ, একই প্রকল্পের অধীনে যশোর অংশের ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের আইন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দেওয়া হলেও ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ অংশের ভুক্তভোগীরা এখনো ক্ষতিপূরণ পাননি। এ বিষয়ে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের কাছে একাধিকবার লিখিত আবেদন করেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ কিংবা সন্তোষজনক জবাব পাওয়া যায়নি।
আন্দোলনকারীরা জানান, গত ২৬ সেপ্টেম্বর সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তাঁরা ছয় দফা দাবি তুলে ধরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ১৫ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, প্রকল্পের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও কর্মচারীদের তালিকাভুক্ত করা, ২০১৭ সালের স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুমদখল আইন অনুযায়ী বর্তমান বাজারমূল্যে ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা অপসারণ বন্ধ রাখা। একই সঙ্গে যশোরের মতো ঝিনাইদহ অংশের ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদেরও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।
এ ছাড়া ক্ষতিপূরণের জন্য বরাদ্দ করা অর্থে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা তদন্ত করা, অধিগ্রহণসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য জেলা প্রশাসনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা এবং ২০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে উচ্চ আদালতের দেওয়া রায় বাস্তবায়নের দাবিও তাঁদের ছয় দফার অন্তর্ভুক্ত।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, নির্ধারিত সময় পার হলেও তাঁদের কোনো দাবি বাস্তবায়ন করা হয়নি। উল্টো ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের যথাযথ নোটিশ না দিয়েই স্থাপনা উচ্ছেদের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বা স্থাপনা অপসারণ করতে দেওয়া হবে না বলে তাঁরা ঘোষণা দেন। পাশাপাশি দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কালীগঞ্জে প্রকল্পের কার্যক্রম পরিচালনা না করার আহ্বান জানান।
তাঁরা বলেন, একই প্রকল্পের আওতায় যশোরের ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা ক্ষতিপূরণ পেলে ঝিনাইদহের ব্যবসায়ীরা কেন বঞ্চিত থাকবেন? এ বৈষম্য দূর করে অবিলম্বে ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং ছয় দফা দাবি বাস্তবায়নে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তাঁরা।
এদিকে অবরোধের কারণে মহাসড়কের উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। এতে যাত্রী, চালক ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। দীর্ঘ সময় যান চলাচল বন্ধ থাকায় সড়কে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়।
পরে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা নাহিদ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের দাবির বিষয়ে আশ্বস্ত করেন। তাঁর আশ্বাসের পর আন্দোলনকারীরা অবরোধ তুলে নিলে প্রায় দুই ঘণ্টা পর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
মানববন্ধন ও অবরোধ কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন ব্যবসায়ী আন্দোলন কমিটির আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন, সদস্যসচিব বায়োজিদ বোস্তমীসহ সংগঠনটির অন্যান্য নেতারা।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...