নিহত আনোয়ার হোসেন।
বিজ্ঞাপন
গতকাল ৭ নভেম্বর শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। পরদিন রবিবার সকালে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর মরদেহ দাফন করা হয়।
নিহত আনোয়ার হোসেন উপজেলার পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের বাসিন্দা।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, জমিজমা নিয়ে আনোয়ার হোসেনের বড় ভাই দেলোয়ার হোসেন ও ছোট ভাই মঞ্জু হাওলাদারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। সম্প্রতি আনোয়ার হোসেন নিজের জমিতে ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করলে তাঁর ভাতিজা মঞ্জু হাওলাদারের ছেলে নাসিম হাওলাদার এবং দেলোয়ার হাওলাদারের ছেলে সোহেল হাওলাদার এতে বাধা দেন। এ বিরোধের জের ধরেই তাঁর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে দাবি পরিবারের সদস্যদের।
নিহতের ছেলে আসিফ হাওলাদার ও মেয়ে নুপুর আক্তার জানান, গত ২৯ অক্টোবর রাতে এশার নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বাড়ি ফিরছিলেন তাঁদের বাবা। এ সময় চাচাতো ভাই নাসিম হাওলাদারের নেতৃত্বে সোহেল হাওলাদার, সমীর হাওলাদার ও নয়ন খানসহ কয়েকজন তাঁর ওপর হামলা চালান। একপর্যায়ে তাঁকে মাথায় কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়।
তাঁদের চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আনোয়ার হোসেনকে উদ্ধার করেন। প্রথমে তাঁকে বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। সেখানে টানা নয় দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শনিবার সন্ধ্যায় তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা আরও অভিযোগ করেন, এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও নয় দিনেও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
নিহতের ভাগ্নে মো. জহিরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, তাঁর মামা আনোয়ার হোসেনকে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে হত্যা করা হয়েছে। হামলায় তাঁর মাথার খুলি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। চিকিৎসার প্রয়োজনে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে খুলির অংশ খুলে সংরক্ষণ করা হয়। জটিল অস্ত্রোপচারসহ চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টার পরও শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এমন মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের পাশাপাশি উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও নিহতের স্বজনরা।
এ বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার এজেড এম মোস্তাফিজুর রহমান জানান, আনোয়ার হোসেন নামে একজনের মৃত্যুর খবর তিনি শুনেছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলে মামলা নেওয়া হবে।
হামলার ঘটনার নয় দিন আগে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও কেন পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি—এমন প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার বলেন, পুলিশের কোনো গাফিলতি থাকলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিবেদক- মোঃ জাহিদুল ইসলাম, বরিশাল।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...