বিজ্ঞাপন
শিবচরের বহেরাতলা, বাশকান্দি, কাদিরপুর ও কুতুবপুরসহ বিভিন্ন এলাকার কৃষি মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, আমন ধান কাটার পর একই জমিতে রসুন চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছেন কৃষকরা। জমি তৈরি, রসুনের কোয়া বাছাই ও রোপণের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষিশ্রমিকরা। তবে স্থানীয়ভাবে শ্রমিক সংকট থাকায় রসুন রোপণের কাজে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মৌসুমি শ্রমিক নিয়ে আসতে হচ্ছে কৃষকদের।
শানাল নামের এক কৃষক জানান, ফরিদপুর, রংপুর ও বগুড়াসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে শ্রমিক এনে রসুন রোপণের কাজ করানো হচ্ছে। একজন শ্রমিককে দৈনিক ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা মজুরি দিতে হচ্ছে। এর পাশাপাশি শ্রমিকদের তিন বেলা খাবারের ব্যবস্থাও করতে হচ্ছে। এতে জমি প্রস্তুত থেকে শুরু করে রসুন রোপণ পর্যন্ত প্রাথমিক পর্যায়েই উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে।
তিনি আরও জানান, প্রয়োজনীয় সার ও কীটনাশক সময়মতো পাওয়া যাচ্ছে না। প্রায় দুই বছর ধরে তিনি কোনো সার পাচ্ছেন না। আগে কমবেশি সার পাওয়া গেলেও বর্তমানে একেবারেই পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন তিনি। অথচ ফসলের উৎপাদন ও ভালো ফলনের জন্য সার অত্যন্ত প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ।
শিবচর উপজেলা প্রশাসনের প্রকাশিত কৃষি তথ্য অনুযায়ী, উপজেলায় মোট জমির পরিমাণ ২৩ হাজার ৮৩৪ হেক্টর। এর মধ্যে নিট ফসলি জমির পরিমাণ ১৬ হাজার ৫০০ হেক্টর এবং মোট ফসলি জমির পরিমাণ ৩৯ হাজার ১০৩ হেক্টর।
শিবচরের কৃষিতে স্থানীয় শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় বাইরের জেলা থেকে আসা মৌসুমি শ্রমিকদের ভূমিকা দিন দিন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আমন ধান কাটার পর রসুন, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন শীতকালীন ফসলের জমি প্রস্তুত ও চাষাবাদের কাজে এসব শ্রমিক নিয়োজিত রয়েছেন।
কৃষকদের মতে, রসুনসহ শীতকালীন ফসলের উৎপাদন বাড়াতে হলে কৃষি উপকরণের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে কৃষি বিভাগের নিয়মিত পরামর্শ ও বাজার ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় সহায়তা পেলে কৃষকরা আরও উৎসাহ নিয়ে চাষাবাদ করতে পারবেন।
শীতের মৌসুমে শিবচরের মাঠজুড়ে বাড়ছে রসুন চাষের ব্যস্ততা। ভালো ফলন ও ন্যায্য দাম পেলে এবারের মৌসুমে লোকসান কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা। তবে বাড়তি উৎপাদন ব্যয় ও কৃষি উপকরণের সংকট নিরসন না হলে মাঠের এই কর্মব্যস্ততা শেষ পর্যন্ত কৃষকের ঘরে প্রত্যাশিত স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে পারবে কি না, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...