ছবি: রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাহুল চন্দ
বিজ্ঞাপন
শহর উন্নয়ন থেকে শুরু করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তাঁর কার্যকর উদ্যোগ এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। রাজাপুরবাসীর মুখে মুখে এখন উন্নয়ন আর পরিবর্তনের গল্প। শহরে আলো নেই, পরিচ্ছন্নতার অভাব, খেলাধুলার সুযোগ সীমিত— এসব দীর্ঘদিনের সমস্যা একে একে সমাধান করে দিচ্ছেন ইউএনও রাহুল চন্দ।
রাতের অন্ধকারে আলোঃ
রাজাপুরে দায়িত্ব নেওয়ার আগে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলো ছিল অন্ধকারাচ্ছন্ন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে কিছু সোলার লাইট বসানো হলেও নিম্নমানের হওয়ায় দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। রাহুল চন্দের উদ্যোগে এখন রাজাপুর শহরসহ উপজেলার বড় বড় হাট-বাজারে স্থাপন করা হয়েছে হ্যালোজেন ও স্ট্রিট লাইট। এতে রাতে চলাচলে মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ তৈরি হয়েছে।
পরিচ্ছন্ন শহর, সুশৃঙ্খল বর্জ্য ব্যবস্থাপনাঃ
একসময় দোকানপাট, বাড়িঘর ও প্রতিষ্ঠানের সামনে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলে রাখা হতো। ইউএনওর উদ্যোগে এখন শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ডাস্টবিন বসানো হয়েছে। নির্ধারিত স্থানে আবর্জনা পরিবহনের জন্য নিয়োগ করা হয়েছে জনবলও। এর ফলে শহরের পরিবেশ আগের চেয়ে অনেক বেশি পরিচ্ছন্ন হয়েছে। উপজেলা পরিষদ চত্বরের ভেতরেও রাখা হচ্ছে পরিচ্ছন্নতার কড়াকড়ি। জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য নেওয়া হয়েছে কার্যকর ব্যবস্থা।
মানবিকতায় অগ্রগামীঃ
অসহায়দের জন্য শীতবস্ত্র বিতরণে তিনি দেখিয়েছেন ভিন্নধর্মী দৃষ্টান্ত। আগের ইউএনওদের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে বিতরণ না করে রাহুল চন্দ নিজ হাতে নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করে রাতের আধারে পৌঁছে দিয়েছেন শীতবস্ত্র। ফলে সাহায্যপ্রাপ্ত পরিবারগুলো পেয়েছে সম্মান ও স্বস্তি।
খেলাধুলায় নতুন অধ্যায়ঃ
রাজাপুরের ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড়দের দীর্ঘদিনের চাহিদা ছিল একটি ইনডোর। তাঁর প্রচেষ্টায় সেই স্বপ্নও পূরণ হয়েছে। এখন খেলোয়াড়রা সারা বছর ইনডোরে অনুশীলনের সুযোগ পাচ্ছেন, যা তাদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা যোগ করেছে।
ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দায়িত্বশীলতাঃ
হিন্দু ধর্মাবলম্বী হলেও সকল ধর্মের প্রতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি সমান। ঈদের নামাজের সময় তিনি ঈদগাহের পাশে দাঁড়িয়ে থাকেন, যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। এ উদ্যোগ তাঁকে সাধারণ মানুষের কাছে আরও প্রিয় করে তুলেছে।
নতুন ঈদগাহ, বড় আনন্দঃ
রাজাপুর উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে সম্প্রতি নির্মিত হয়েছে আধুনিক ও প্রশস্ত উপজেলা ঈদগাহ। প্রায় ১৭ হাজার বর্গফুট আয়তনের এই ঈদগাহটি রাজাপুর মডেল মসজিদ ও উপজেলা পরিষদের পুকুরের মধ্যবর্তী মাঠে তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিনের চাহিদা পূরণ হওয়ায় স্থানীয় মুসল্লিদের মধ্যে বিরাজ করছে আনন্দ ও সন্তুষ্টি। ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা, জানাজা ও অন্যান্য ধর্মীয় সমাবেশ এখন থেকে এখানে অনুষ্ঠিত হবে সুষ্ঠু পরিবেশে।
দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগঃ
শুধু আলো-আবর্জনাই নয়, রাজাপুরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল কবিরাজ বাড়ি খাল খনন ও দখলমুক্ত করা। ইউএনও রাহুল চন্দ সেই উদ্যোগও হাতে নিয়ে খাল খনন ও দখলমুক্ত করেছেন। উপজেলা পরিষদের ভেতরে সৌন্দর্যবর্ধন, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সেবা সহজীকরণ, দীর্ঘদিন আটকে থাকা নামজারি সেবা দ্রুত সম্পন্ন করা— এসবও চলছে তাঁর হাত ধরে। এছাড়া শিক্ষার মানোন্নয়নে তিনি নিয়মিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করছেন। সরকার নির্ধারিত সময়ের আগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছুটি দেওয়ার প্রবণতা তিনি কঠোরভাবে প্রতিরোধ করছেন।
রাজাপুরবাসীর আশাঃ
রাজাপুরের সাধারণ মানুষ বলছেন, প্রশাসনের একনিষ্ঠতা ও ইচ্ছাশক্তি থাকলে অনেক কিছুই সম্ভব। ইউএনও রাহুল চন্দ প্রমাণ করেছেন— দায়িত্বে সততা থাকলে উন্নয়ন স্বাভাবিকভাবেই আসে। এর আগে এই উপজেলায় অনেক ইউএনও এসেছেন তবে রাহুল চন্দের মতো এতো উন্নয়ন কেউ করেনি। রাহুল চন্দের মতো একজন ইউএনও রাজাপুর উপজেলায় থাকলে হয়তো একটা আধুনিক মডেল উপজেলা গড়ে তুলতে পারবেন বলে আশা করছেন সাধারণ মানুষ।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...