বিজ্ঞাপন
অপারেশনের পর টানা পাঁচ দিন আইসিইউতে অচেতন থাকার পর অবশেষে মারা যান খয়রুল ইসলাম (৫০) নামের এক রোগী। এ ঘটনায় জেলায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, সুস্থ একজন মানুষকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও অপচিকিৎসার কারণে লাশ নিয়ে ফিরতে হয়েছে। তারা এ ঘটনায় বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
নিহত খয়রুল ইসলাম ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রহিমানপুর ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। পরিবারের সদস্যরা জানান, গত বৃহস্পতিবার রাতে গলব্লাডার অপারেশনের জন্য খয়রুলকে মাম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন চিকিৎসক ডা. রুহুল কুদ্দুস অপারেশন করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, অপারেশনের পর নয় ঘণ্টা পর্যন্ত রোগীকে ওটি রুমেই রাখা হয়। এতে ক্ষুব্ধ স্বজনরা কর্তৃপক্ষের কাছে জবাব চাইলে কৌশলে রোগীকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে পাঁচ দিন আইসিইউতে থাকার পর বুধবার ভোরে খয়রুলের মৃত্যু হয়।
মৃত রোগীর মেয়ে খুরশিদা জাহান খুশবু বলেন, “গলব্লাডার অপারেশনে সাধারণত ২০-২৫ মিনিট সময় লাগে। কিন্তু আমার বাবার ক্ষেত্রে ঘণ্টারও বেশি সময় লেগেছে। এরপর আর জ্ঞান ফেরেনি। আমরা বারবার জানতে চাইলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলেছে ‘কোনো সমস্যা হয়নি’, এমনকি ঘুমের ওষুধ বেশি হয়ে গেছে বলে আশ্বস্ত করেছে। চিকিৎসকের অবহেলার কারণেই আমার বাবাকে হারিয়েছি।”
তিনি আরও জানান, তারা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবেন।
রোগীর প্রতিবেশীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এটি সরাসরি হত্যার শামিল। বেসরকারি হাসপাতালগুলো কেবল টাকা কামানোর ধান্দায় থাকে। রোগীর জীবন-মৃত্যুর প্রতি তাদের কোনো দায়বদ্ধতা নেই। দায়ীদের কঠোর শাস্তি দিতে হবে।”
মাম হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ম্যানেজার সফিউল আলম ভুট্টু বলেন, “অপারেশনের পর রোগীর অবস্থা সন্তোষজনক ছিল না। এখানে আইসিইউ সুবিধা না থাকায় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর আমরা তাকে দিনাজপুর মেডিকেলে পাঠাই। চিকিৎসায় কোনো অবহেলা হয়নি। তবে রোগী মারা যাবে, সেটা আমরা ভাবিনি।”
ঠাকুরগাঁওয়ের সিভিল সার্জন ডা. আনিছুর রহমান বলেন, “বিষয়টি আমরা শুনেছি। তদন্ত সাপেক্ষে সত্যতা যাচাই করা হবে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।”
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...