বিজ্ঞাপন
ভোট শুরুর পরপরই জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলে ব্যালট পেপারে ভুলের অভিযোগ ওঠে। কার্যকরী সদস্য পদে তিনজন প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার বিধান থাকলেও ব্যালটে উল্লেখ ছিল কেবল একজন প্রার্থীর পাশে টিকচিহ্ন দেওয়ার নির্দেশনা। বিষয়টি নিয়ে ভোটার ও প্রার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।
বেলা ১১টার দিকে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের ভিপি প্রার্থী শেখ সাদী হাসান ছাত্রীদের হলে প্রবেশ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। নিরাপত্তাজনিত কারণে কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে ভোটগ্রহণ স্থগিত করে। পরবর্তীতে দুপুর ২টার দিকে পুনরায় ভোট শুরু হয়।
এ সময় একের পর এক অভিযোগ আনতে থাকেন ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীরা। তাদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ছাত্রশিবিরের প্যানেলকে বিজয়ী করতে কাজ করছে। এমনকি নির্বাচনের জন্য ব্যালট পেপার জামায়াতে ইসলামী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।
কারচুপি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিকেল পৌনে ৪টার দিকে সংবাদ সম্মেলন করে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন জিএস পদপ্রার্থী তানজিলা হোসাইন বৈশাখী। এরপর বিএনপিপন্থি তিন শিক্ষক নির্বাচনের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।
অন্যদিকে, ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীরা দাবি করেন— ভোট সুষ্ঠু হয়েছে এবং পরাজয়ের শঙ্কা থেকে ছাত্রদল নানা অভিযোগ করছে।
জাকসু নির্বাচনকে ঘিরে পুরো ক্যাম্পাসে নেওয়া হয় নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা। শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় মোতায়েন করা হয় ১ হাজার ৫৩৪ জন পুলিশ সদস্য, ৭ প্লাটুন বিজিবি ও ৫ প্লাটুন আনসার। এছাড়া আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ক্যাম্পাস ও আশপাশে অবস্থান নেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ন্ত্রিত চলাচল নিশ্চিত করতে ১০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টা থেকে মীর মশাররফ হোসেন হল গেট ও প্রান্তিক গেট ছাড়া অন্য সব গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। পাশাপাশি আজ সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ক্যাম্পাসের ভাসমান দোকান, টারজান পয়েন্ট, পরিবহন চত্বর, মুরাদ চত্বর ও প্রধান গেট সংলগ্ন দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশনা কার্যকর করা হয়। তবে আবাসিক হলের ক্যান্টিন ও প্রয়োজনীয় দোকান খোলা রাখা হয়।
নিরাপত্তার অংশ হিসেবে ১১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টা থেকে ১২ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টা পর্যন্ত জরুরি সেবা (নিরাপত্তা, পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস, ইন্টারনেট) ব্যতীত সব ধরনের মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ রাখা হয়। শুধুমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলাকার স্টিকারযুক্ত ও নির্বাচন কমিশনের অনুমোদিত যানবাহন ক্যাম্পাসে প্রবেশের অনুমতি পায়। স্টাফ বাস প্রবেশ করতে পারে শুধু প্রান্তিক গেট দিয়ে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
সর্বশেষ
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...