Logo Logo

সব দল ঘুরে এবার খেলাফত মজলিসের মনোনয়ন পেলেন কলমাকান্দার গোলাম রব্বানী


Splash Image

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেত্রকোনা–১ (কলমাকান্দা–দুর্গাপুর) আসনে আবারও আলোচনায় উঠে এসেছেন দলবদলের জন্য বহুল সমালোচিত রাজনীতিক গোলাম রব্বানী।


বিজ্ঞাপন


দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে একের পর এক দলে যোগ দেওয়ার পর এবার তিনি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মনোনয়ন পেয়ে রিকশা প্রতীকে নির্বাচনে লড়ছেন। আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির পর এটি তার চতুর্থ রাজনৈতিক ঠিকানা। এ কারণে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলসহ সাধারণ মানুষের মাঝে চলছে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় প্রতিবার নির্বাচনের আগেই রব্বানী মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা বিবেচনায় দল পরিবর্তন করেন। এতে তিনি সাধারণ ভোটারদের কাছে ক্রমশ অগ্রহণযোগ্য হয়ে পড়েছেন। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন, ভূমি দখল ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগও রয়েছে।

তার দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা ও সমালোচনার ঘেরাটোপ অনুসন্ধানে জানা গেছে, ছাত্রলীগের রাজনীতি দিয়ে পথচলা শুরু করেন গোলাম রব্বানী। ১৯৮৬ সালে তিনি কলমাকান্দা উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরের নির্বাচনে ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য হন।

২০০৬ সালে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন এবং মনোনয়নও পান, যদিও ওই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। পরবর্তীতে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ নেতা ওবায়দুল কাদেরের ঘনিষ্ঠ পরিচয় ব্যবহার করে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন—এমন অভিযোগ রাজনৈতিক মহলে প্রচলিত।

২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন চাইলে তা পাননি। পরে আবার জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনে লাঙ্গল প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জামানত হারান। এবার খেলাফত মজলিস তাকে প্রার্থী করায় স্থানীয় আলেম সমাজের একাংশও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

একজন আলেম হাফেজ দেলোয়ার হোসেন বলেন, “খেলাফতের নীতি–আদর্শের সঙ্গে এমন দলবদলকারী নেতার কোনো মিল নেই। তার মনোনয়ন পাওয়ায় আমি দলটিই ছেড়ে দিয়েছি।”

জাতীয় পার্টির নেতা ফরিদ মিয়া বলেন, “রব্বানী আজ এখানে, কাল অন্য দলে। এমন পল্টিবাজ নেতার ওপর জনগণের কোনো আস্থা নেই।”

রংছাতি ইউনিয়নের সাইফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, “আমাদের জমি দখলের জন্য তিনি বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করেছেন। আওয়ামী লীগের আমলে জাতীয় পার্টির পরিচয় ব্যবহার করে আমাদের ওপর হামলাও হয়েছিল।”

এছাড়া স্থানীয়দের দাবি, সংসদ সদস্য থাকাকালে ‘দেছার ঘাগ্রা’ নামের এক উপজাতি নারীকে নৃশংসভাবে আহত করার ঘটনার সাথেও তার নাম জড়ায়।

দেছার ঘাগ্রার মেয়ে মর্জিনা ঘাগ্রা বলেন, “আমার মাকে তিনি কুপ্রস্তাব দিতেন। সাড়া না পেয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মায়ের গোপনাঙ্গে আঘাত করেছিলেন—এ কথা আমরা কখনো ভুলিনি।”

অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে গোলাম রব্বানী বলেন, “আমি মূলত জাতীয় পার্টির মানুষ। উপজাতিদের সঙ্গে আমার শৈশবের সম্পর্ক ভালো। ভূমি নিয়ে যে আলোচনা চলছে—ওই জায়গা আমার, সাইফুল দাবি করছে তাদের। বিষয়টি আলোচনাধীন।”

ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে পরিচয়ের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “শিক্ষাজীবনের সুবাদে পরিচয় ছিল মাত্র। এখন পরকালের কথা চিন্তা করে খেলাফত মজলিসে এসেছি। আলেমদের সঙ্গে থাকতে চাই।”

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...