Logo Logo

পঞ্চগড়ে চলছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ, বাড়ছে ঠান্ডার প্রকোপ


Splash Image

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকায় দিন দিন বাড়ছে ঠান্ডার প্রকোপ। তীব্র শীতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ, দিনমজুর, জেলে ও শ্রমজীবীরা। কুয়াশা আর উচ্চ আর্দ্রতার কারণে সূর্যের দেখা না মেলায় শীতের অনুভূতি হয়ে উঠছে আরও তীব্র।


বিজ্ঞাপন


মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়া প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৯৯ শতাংশ। সকাল থেকে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত হালকা কুয়াশা বিরাজ করছিল, দেখা মেলেনি সূর্যের। আর্দ্রতা বেশি থাকায় অনুভূত শীত ছিল অত্যন্ত কনকনে।

এর আগে গত রোববার ও সোমবার (১৪ ও ১৫ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে আসে ৯ দশমিক শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াসে। শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, তখন বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৭৩ শতাংশ। শনিবার (২০ ডিসেম্বর) তাপমাত্রা বেড়ে ১৪ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে উঠলেও রোববার (২১ ডিসেম্বর) তা আবার নেমে আসে ১২ দশমিক ৪ ডিগ্রিতে। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস, সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয় ২১ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ১০০ শতাংশ। এ সময় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে তেঁতুলিয়াতেই রেকর্ড হচ্ছে।

শীতের এই প্রকোপে জীবিকার তাগিদে বাইরে বের হতে পারছেন না অনেক শ্রমজীবী মানুষ। উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের কালদাসপাড়া গ্রামের জেলে সুসিল দাস ও দুলাল দাস জানান, নদীতে মাছ ধরেই তাদের সংসার চলে। কয়েকদিনের প্রচণ্ড ঠান্ডায় ভোরে ঘর থেকে বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। বাধ্য হয়ে দুপুরের দিকে জীবিকার সন্ধানে বের হতে হচ্ছে। তারা গরিব, দুঃস্থ, অসহায় ও বয়োবৃদ্ধদের জন্য দ্রুত সরকারি সহায়তায় কম্বল বিতরণের দাবি জানান।

এ বিষয়ে তেঁতুলিয়া প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের টেলিপ্রিন্টার অপারেটর (টিপিও) আব্দুর রশিদ বলেন, “গত ১১ ডিসেম্বর থেকে ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত তেঁতুলিয়ায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ চলছে। মঙ্গলবার সকাল ৯টায় তাপমাত্রা ১২ ডিগ্রির ঘরে থাকলেও মাঝে ২০ ডিসেম্বর তা ১৪ ডিগ্রিতে উঠেছিল। তবে বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা বেশি থাকায় শীতের অনুভূতি এখনও তীব্র। ডিসেম্বরের শেষের দিকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনাও রয়েছে।”

এদিকে আবহাওয়ার এমন অবস্থায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও শীতবস্ত্র বিতরণ জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...