Logo Logo

ফরিদপুরে বহিরাগতদের হামলায় পণ্ড জেমসের কনসার্ট, আহত অন্তত ২৫


Splash Image

ফরিদপুর জিলা স্কুলের ১৮৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আনন্দঘন আয়োজন মুহূর্তেই রূপ নিলো বিষাদে। বহুল প্রতীক্ষিত নগর বাউল খ্যাত জেমসের কনসার্ট শুরু হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে বহিরাগত উশৃঙ্খলদের হামলা ও বিশৃঙ্খলায় পণ্ড হয়ে গেছে পুরো আয়োজন।


বিজ্ঞাপন


শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) রাতে স্কুল প্রাঙ্গণে ঘটা এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় শিক্ষার্থীসহ অন্তত ২৫ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে জেলা প্রশাসনের নির্দেশে অনুষ্ঠানটি বাতিল ঘোষণা করেন আয়োজকরা।

ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির ১৮৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুরু হয়েছিল দুই দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য উৎসব। শুক্রবার সমাপনী দিনে র‍্যাফেল ড্র ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার মূল আকর্ষণ ছিলেন রকস্টার জেমস। স্বভাবতই জেমসের গান সরাসরি দেখার জন্য সাধারণ দর্শক ও স্থানীয়দের মধ্যে ছিল প্রচণ্ড উন্মাদনা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জেমস মঞ্চে ওঠার ঠিক আগ মুহূর্তে অনুষ্ঠানস্থলের গেটে ভিড় করা বহিরাগতরা ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করে। আয়োজক ও নিরাপত্তাকর্মীরা বাধা দিলে শুরু হয় উত্তেজনা। এক পর্যায়ে বহিরাগতরা অনুষ্ঠানস্থলের দিকে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এতে অনুষ্ঠানে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে এবং আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

হামলার মুখে জিলা স্কুলের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা প্রতিরোধের চেষ্টা করলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে স্কুলের অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন শিক্ষার্থীসহ মোট ২৫ জন আহত হন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রাত ১০টার দিকে মঞ্চে আসেন আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক মুস্তাফিজুর রহমান শামীম। তিনি জানান, সার্বিক নিরাপত্তা ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি বিবেচনা করে ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের নির্দেশে জেমসের অনুষ্ঠানটি বাতিল করা হয়েছে। এতে দূর-দূরান্ত থেকে আসা হাজারো দর্শক হতাশ হয়ে ফিরে যান।

আয়োজকরা জানান, এত বড় একটি আয়োজন সফল করতে তাদের দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি ছিল, যা গুটি কয়েক মানুষের উশৃঙ্খলতায় ম্লান হয়ে গেল। বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানের প্রচার ও মিডিয়া উপ-কমিটির আহ্বায়ক রাজীবুল হাসান খান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “জেমসের অনুষ্ঠানটি সফল করতে আমাদের সব প্রস্তুতি ছিল। কিন্তু কারা, কেন এই হামলা চালাল তা আমাদের বোধগম্য নয়। ইট-পাটকেলের আঘাতে আমাদের স্কুলের অনেক শিক্ষার্থী রক্তাক্ত হয়েছে। শেষ পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের নির্দেশে আমরা অনুষ্ঠান বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছি।” উল্লেখ্য, বড় কোনো ওপেন এয়ার কনসার্টে সঠিক ক্রাউড ম্যানেজমেন্ট বা ভিড় সামলানোর পরিকল্পনায় ঘাটতি থাকলে প্রায়শই এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে দেখা যায়, যা ফরিদপুরের এই উৎসবেও পুনরাবৃত্তি হলো।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...