বিজ্ঞাপন
বড়দিন উপলক্ষে চার্চটিকে রঙিন আলোকসজ্জায় সাজানো হয়। দিনব্যাপী আয়োজনের মধ্যে ছিল বিশেষ প্রার্থনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সন্ধ্যায় প্রভু যীশু খ্রিস্টের জন্ম, ত্যাগ ও জীবনের বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে ৪৫ মিনিটের একটি বিশেষ ‘পটগান’ পরিবেশিত হয়। ঐতিহ্যবাহী এই পরিবেশনাটি আগত দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে বিমোহিত করে। পরবর্তী পর্যায়ে ‘হিট বাংলাদেশ’-এর পরিচালনায় একটি মনোজ্ঞ বাউল সংগীতের আসর বসে। অনুষ্ঠানে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের পাশাপাশি স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
উৎসবের আনন্দ ছাপিয়ে মণ্ডলীর সরকারি অনুদান প্রাপ্তি নিয়ে কর্তৃপক্ষের মধ্যে মতবিরোধ লক্ষ্য করা গেছে। ইভানজেলিক্যাল লুথারেন চার্চের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শ্যামল সাইমন মণ্ডল অভিযোগ করে বলেন, "প্রতিবছর জিসিএফের (GCF) মাধ্যমে আমরা সরকারি আর্থিক সহায়তা পেতাম। কিন্তু এ বছর জিসিএফ সভাপতি রেভারেন্ট স্বপন বিশ্বাস আমাদের মণ্ডলীর নাম তালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন। ফলে পুরো অনুষ্ঠানের ব্যয় আমাকে একাই বহন করতে হয়েছে, যা ছিল অত্যন্ত কষ্টসাধ্য।" তিনি ভবিষ্যতে যাতে এই মণ্ডলীর নাম তালিকা থেকে বাদ না যায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে জিসিএফ সভাপতি রেভারেন্ট স্বপন বিশ্বাস জানান, ইভানজেলিক্যাল লুথারেন চার্চ নামে কোনো নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের তথ্য তাদের দপ্তরে নেই। তিনি বলেন, "সরকারি অনুদান পাওয়ার প্রধান শর্ত হলো সপ্তাহে অন্তত একদিন চার্চে নিয়মিত উপাসনা কার্যক্রম পরিচালিত হওয়া। যদি উক্ত চার্চ নিয়মিত উপাসনার প্রমাণ দিতে পারে, তবে আমরা অনুদান দিতে বাধ্য থাকব। অন্যথায় সরকারি অর্থ প্রদান করা সম্ভব নয়।"
উল্লেখ্য, প্রতিবছর বড়দিন উপলক্ষে সরকার খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বিশেষ আর্থিক বরাদ্দ প্রদান করে থাকে। হাটবাড়ীয়া–পূর্বপাড়া এলাকার এই চার্চটি নিয়ে উদ্ভূত সমস্যাটি দ্রুত নিরসনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মানুষ।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...