বিজ্ঞাপন
আসামি নিতাই চন্দ্র বিশ্বাস কাশিয়ানী উপজেলার ভাদুলিয়া গ্রামের মৃত অমূল্য কুমার বিশ্বাসের ছেলে। তিনি কাশিয়ানী উপজেলা কৃষি অফিসে 'স্প্রেয়ার মেকানিক' হিসেবে কর্মরত থাকলেও এলাকায় নিজেকে 'কৃষি অফিসার' হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
মামলার বিবরণী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১ নভেম্বর বালিয়ার একটি খ্রিষ্টান চার্চের আওতাধীন রেলওয়ের জায়গা দখল করতে যান নিতাই চন্দ্র বিশ্বাস ও তার সহযোগীরা। চার্চের লোকজন এতে বাধা দিলে নিতাই বিশ্বাসের নেতৃত্বে একদল দুর্বৃত্ত চার্চে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় দুইজন গুরুতর জখম হন এবং চার্চের দানবাক্সে থাকা নগদ টাকা লুট করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, বিগত সরকারের রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় নিতাই বিশ্বাস দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছিলেন। নিজেকে ভুয়া পদবীতে পরিচয় দিয়ে তিনি সরকারি ও রেলওয়ের বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের নামে বরাদ্দ নিয়ে ভূমিদস্যুতা চালিয়ে আসছিলেন। চার্চে হামলার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ৪ জন নামীয় এবং আরও ১০-১৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করা হয়। প্রাথমিক সত্যতা যাচাই শেষে আদালত তাকে জেলহাজতে প্রেরণের আদেশ দেন।
নিতাই বিশ্বাসের গ্রেফতারের বিষয়ে কাশিয়ানী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এজাজুল করিম জানান, "নিতাই চন্দ্র বিশ্বাস এই অফিসে স্প্রেয়ার মেকানিক হিসেবে কর্মরত। নিয়ম অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মচারী ফৌজদারি মামলায় জেলহাজতে গেলে তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। মামলা থেকে নির্দোষ প্রমাণিত হলে পরবর্তী সময়ে তিনি চাকরিতে ফেরার সুযোগ পাবেন।"
বর্তমানে এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও ভূমিদস্যু নিতাই বিশ্বাসের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী ও এলাকাবাসী।
প্রতিবেদক- এ জেড আমিনুজ্জামান রিপন, গোপালগঞ্জ।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...