বিজ্ঞাপন
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসনের বিদায়ী সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন।
সাক্ষাৎকালে প্রধান উপদেষ্টা জানান, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে নির্বাচন ও গণভোট সফল করতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, “আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত। নির্বাচনের আগে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিনষ্টের যেকোনো অপচেষ্টা কঠোর হস্তে দমন করা হবে।”
বাংলাদেশে এক বছরের দায়িত্ব পালন শেষে বিদায় নিতে যাওয়া ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন গত ১৭ মাসে প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং আসন্ন নির্বাচন ঘিরে মার্কিন সরকারের অব্যাহত সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
আলোচনায় অন্তর্বর্তী সরকারের গৃহীত শ্রম সংস্কারের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে উঠে আসে। মার্কিন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স বাংলাদেশের নতুন শ্রম আইনকে ‘অত্যন্ত ব্যতিক্রমী ও অসাধারণ’ বলে অভিহিত করেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, এই আধুনিক সংস্কার বাংলাদেশে আরও বেশি সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (FDI) আকর্ষণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
বিশেষ করে পূর্ববর্তী সরকারের আমলে শ্রম নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা ৪৬টি মামলার মধ্যে ৪৫টি প্রত্যাহার করে নেওয়ায় তিনি সরকারের প্রশংসা করেন। জবাবে অধ্যাপক ইউনূস নতুন শ্রম অধ্যাদেশকে ‘একটি সেরা আইন’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং জানান যে, শীর্ষস্থানীয় শ্রম আন্দোলনকর্মী ও আইএলও (ILO) এই সংস্কারকে স্বাগত জানিয়েছে।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে আলোচনার সময় অধ্যাপক ইউনূস জানান, কক্সবাজার ও ভাসানচরে বসবাসরত ১০ লক্ষাধিক রোহিঙ্গার জন্য যুক্তরাষ্ট্রই এককভাবে বৃহত্তম দাতা দেশ। জীবনরক্ষাকারী এই মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার জন্য তিনি ওয়াশিংটনকে ধন্যবাদ জানান এবং ভবিষ্যতে এই সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সাক্ষাতে বাণিজ্য, বেসামরিক বিমান চলাচল এবং দুই দেশের সামগ্রিক দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনকালে ‘গুরুত্বপূর্ণ কাজ’ করার জন্য এবং বাংলাদেশের প্রকৃত ‘বন্ধু’ হিসেবে ভূমিকা রাখার জন্য ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসনকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান প্রধান উপদেষ্টা। সেই সাথে তাকে ভবিষ্যতে আবারও বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান তিনি।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...