Logo Logo

সুনামগঞ্জের ৫ আসনেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস


Splash Image

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সুনামগঞ্জ জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র দাখিলের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বইছে চরম উত্তাপ। বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টি এবং ইসলামী দলগুলোর পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতিতে প্রতিটি আসনেই সৃষ্টি হয়েছে বহুমাত্রিক ও জটিল সমীকরণ।


বিজ্ঞাপন


সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমাদানকে কেন্দ্র করে উৎসবমুখর পরিবেশের আড়ালে ছিল বড় রাজনৈতিক দলগুলোর স্পষ্ট শক্তি প্রদর্শনের বার্তা।

সুনামগঞ্জ-১

জামালগঞ্জ, তাহিরপুর, ধর্মপাশা ও মধ্যনগর নিয়ে গঠিত এই আসনে বিএনপির অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতা তুঙ্গে। এখানে দলটির পক্ষ থেকে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহ-সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আনিসুল হক এবং জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল।

তবে বিএনপির এই দুই নেতার লড়াইয়ের মাঝে শক্ত অবস্থান জানান দিতে জামায়াতে ইসলামের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দাখিল করেছেন জেলা জামায়াতের আমির তোফায়েল আহমদ খান। এছাড়া ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী ডা. রফিকুল ইসলাম চৌধুরী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মুজাম্মিল হক তালুকদার নির্বাচনী লড়াইকে আরও চ্যালেঞ্জিং করে তুলেছেন।

সুনামগঞ্জ-২

দিরাই-শাল্লা আসনে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রবীণ নেতা নাছির উদ্দিন চৌধুরী মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। তার বিপরীতে দলীয় ঘরানায় চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন জেলা বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তাহির রায়হান চৌধুরী পাভেল।

এই আসনে আদর্শিক লড়াইয়ের নতুন মাত্রা যোগ করেছেন জামায়াত মনোনীত প্রার্থী, সুপ্রিম কোর্টের আলোচিত আইনজীবী ও শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি মোহাম্মদ শিশির মনির। এছাড়া মাঠে রয়েছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা শোয়াইব আহমদ, সিপিবির নিরঞ্জন দাস (খোকন) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ঋতেষ দেব।

সুনামগঞ্জ-৩

জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জ নিয়ে গঠিত এই আসনে প্রার্থীর সংখ্যা এবার রেকর্ড ছুঁয়েছে। বিএনপির হয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় সদস্য কয়ছর এম আহমদ, তবে তার গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন।

আসনটিতে ছোট বড় প্রায় সব দলের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। জামায়াতের অ্যাডভোকেট ইয়াসীন খান, খেলাফত মজলিসের শেখ মুশতাক আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট শাহীনুর পাশা চৌধুরী, এবি পার্টির সৈয়দ তালহা আলম, এনসিপির মাসুদুর রহমান ও ইহছাক আমিনী, এবং গণঅধিকার পরিষদের পারভেজ আহমদ সহ বেশ কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী এখানে লড়াইকে বহুমুখী করে তুলেছেন।

সুনামগঞ্জ-৪

সুনামগঞ্জ সদর ও বিশ্বম্ভরপুর আসনে বিএনপির দলীয় ঐক্যের সংকট স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। দলের বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুল প্রার্থী হলেও তাকে মোকাবিলা করতে হবে একই দলের দুই প্রভাবশালী স্বতন্ত্র প্রার্থীকে—সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন এবং ব্যারিস্টার আবিদুল হক আবিদ।

পাশাপাশি জাতীয় পার্টির অ্যাডভোকেট নাজমুল হুদা হিমেল, জামায়াতের অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শামস উদ্দীন এবং গণঅধিকার পরিষদের সওগাত উছমানী চৌধুরী ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা এই আসনে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন।

সুনামগঞ্জ-৫

ছাতক ও দোয়ারাবাজার আসনে বিএনপির একক আধিপত্যের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সাবেক এমপি কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন মনোনয়ন জমা দিলেও স্বতন্ত্র হিসেবে প্রার্থী হয়েছেন কেন্দ্রীয় সদস্য ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান চৌধুরী মিজান।

এছাড়া জামায়াতের আব্দুস সালাম আল মাদানী, জাতীয় পার্টির জাহাঙ্গীর আলম এবং ইসলামী ঘরানার দলগুলোর প্রার্থীদের সরব উপস্থিতি ভোটের সমীকরণকে অত্যন্ত জটিল করে তুলেছে।

মনোনয়নপত্র দাখিলকে কেন্দ্র করে জেলা জুড়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি লক্ষ্য করা গেছে। জেলা প্রশাসক কার্যালয় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সুনামগঞ্জের পাঁচটি আসনেই এবার মর্যাদার লড়াই হবে। বিশেষ করে বড় দলগুলোর বিদ্রোহী প্রার্থী ও জামায়াত-ইসলামী দলগুলোর শক্ত অবস্থান জেলার রাজনীতিতে নতুন কোনো মোড় সৃষ্টি করে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...