বিজ্ঞাপন
সম্প্রতি দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠান ‘চল যাই ভোটে’-তে অংশ নিয়ে তিনি এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান। অনুষ্ঠানটি কেএস ব্রিকস ও মোবারক ফ্যাশনের সহযোগিতায় আয়োজিত হয়।
তৃণমূল বিএনপিতে যোগদানের গুঞ্জনকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রপাগান্ডা হিসেবে আখ্যায়িত করেন শাহিনুর পাশা। তিনি বলেন, “আমি ১৯৯২ সাল থেকে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশে রাজনীতি করে আসছি। আমি কখনো তৃণমূল বিএনপির কর্মী ছিলাম না, দলেও যোগ দিইনি। নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য আমাকে জোর করে সই করানো হয়েছিল। এটাকে বারবার দল পরিবর্তন বলা চরম অন্যায়।”
নিজের রাজনৈতিক পরিচয় তুলে ধরে এই আইনজীবী নেতা বলেন, “আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স করেছি, পেশায় একজন আইনজীবী। কিন্তু আমার মূল পরিচয় আমি একজন আলেমে দ্বীন। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসে যোগ দেওয়া কোনো দল পরিবর্তন নয়; এটি কওমি অঙ্গনের একটি বৃহত্তর প্ল্যাটফর্মে অবস্থান নেওয়া।”
মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বের প্রতি পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “মাওলানা মামুনুল হক আজ দেশের মানুষের আস্থার প্রতীক। তাঁর হাতকে শক্তিশালী করতে পারলে আমার ৩৬ বছরের রাজনীতি সফল হবে। তাঁর নেতৃত্ব শক্তিশালী হলে বাংলাদেশ, ইসলাম ও স্বাধীনতা সুরক্ষিত থাকবে।”
আগামী নির্বাচনে সুনামগঞ্জ-৩ (শান্তিগঞ্জ-জগন্নাথপুর) আসনে খেলাফত মজলিসের হয়ে ৮ দলীয় জোটের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন শাহিনুর পাশা। তিনি বলেন, “আমার নির্বাচনী এলাকার ৫২৪টি গ্রামের এমন কোনো গ্রাম নেই যেখানে গত ৩৬ বছরে আমি যাইনি। এলাকার মানুষ আমাকে ভালোভাবেই চেনে।”
নিজের সংসদ সদস্য থাকাকালীন উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরে তিনি বলেন, “শান্তিগঞ্জ উপজেলার মানুষ প্রায় ৪০ বছর ধরে পৃথক উপজেলা বাস্তবায়নের স্বপ্ন দেখেছিল। আমি সংসদ সদস্য থাকা অবস্থায় ২০০৬ সালের ৬ জুন দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা বাস্তবায়ন করি, যা পরে শান্তিগঞ্জ নামে পরিচিত হয়।”
তিনি আরও জানান, “পাগলা–আউশকান্দি সড়কে ৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ, নোয়াখালী–ভীমখালী, মদনপুর–দিরাই, জগন্নাথপুর–শিবগঞ্জ সড়ক সংস্কার ছিল যুগান্তকারী পদক্ষেপ। জগন্নাথপুর কলেজকে ডিগ্রি কলেজে উন্নীত করেছি, ১০টি হাই স্কুলে দ্বিতল ভবন নির্মাণ, ৫২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে বন্যাশ্রয়কেন্দ্রে রূপান্তর, ৫৮টি কালভার্ট ও অসংখ্য ব্রিজ নির্মাণ করেছি।”
জুলাই বিপ্লবে নিজের সক্রিয় ভূমিকার কথা উল্লেখ করে সাবেক এই এমপি বলেন, “জুলাইয়ের আন্দোলনে আমি রাজপথে ছিলাম, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের নিয়ে সিলেটে আন্দোলনে অংশ নিয়েছি। স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করার পরও আমাকে কেন ‘ডামি প্রার্থী’ বলা হচ্ছে, তা আমার বোধগম্য নয়।”
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, ১৯৯৬ সালে তিনি আব্দুস সামাদ আজাদের মতো নেতার সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন এবং ২০০১ সালে বিজয়ী হলেও তাকে কৌশলে পরাজিত দেখানো হয়েছিল।
আগামী নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদ ব্যক্ত করে শাহিনুর পাশা চৌধুরী বলেন, “এই আসনের মানুষ আমাকে ছাড়া বিকল্প চিন্তা করে না। আমি বিশ্বাস করি, ইনশাআল্লাহ নিরঙ্কুশ ভোটের মাধ্যমে মানুষ আবারও আমাকেই বেছে নেবে।”
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...