Logo Logo

তীব্র শীতে কাঁপছে শিবচর, বিপর্যস্ত জনজীবন


Splash Image

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় হঠাৎ করেই জেঁকে বসেছে তীব্র শীত। গত কয়েকদিন ধরে দক্ষিণাঞ্চলের এই উপজেলায় বইছে হিমেল হাওয়া, সঙ্গে ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে গেছে চারপাশ। হাড়কাঁপানো শীতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ ও চরাঞ্চলের বাসিন্দারা।


বিজ্ঞাপন


ভোর থেকে সকাল গড়িয়ে দুপুর হলেও সূর্যের দেখা মিলছে না। শিবচরের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া পদ্মা নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলোতে কুয়াশার তীব্রতা তুলনামূলক বেশি থাকায় দৃষ্টিসীমা মারাত্মকভাবে কমে গেছে। এর ফলে ঢাকা–ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েসহ উপজেলার বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ সড়কে যানবাহন চলাচল করছে ধীরগতিতে। দিনের বেলাতেও হেডলাইট জ্বালিয়ে গাড়ি চালাতে দেখা গেছে অনেক চালককে।

তীব্র শীতের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন শ্রমজীবী মানুষ। দিনমজুর, রিকশাচালক ও কৃষি শ্রমিকরা সময়মতো কাজে বের হতে পারছেন না। জীবিকার তাগিদে কেউ কেউ অটো বা ভ্যান নিয়ে বের হলেও যাত্রী ও কাজের সংকটে আয়-রোজগার কমে গেছে উল্লেখযোগ্যভাবে।

শিবচর বাজারের এক অটোচালক বলেন, “বড্ড শীত লাগছে বাবা, হাত-পা জমে যায়। কুয়াশার কারণে রাস্তায় লোকও কম, আয়-রোজগার একদম কমে গেছে।”

অন্যদিকে, চরাঞ্চলের দরিদ্র মানুষজন খড়কুটো ও জ্বালানি পুড়িয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। শীতবস্ত্রের তীব্র সংকটে এসব এলাকার অনেক পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে। শিশু ও বৃদ্ধদের কষ্ট সবচেয়ে বেশি।

শীতের প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্টে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকরা জানান, এই সময় সবাইকে গরম কাপড় পরা, ঠান্ডা এড়িয়ে চলা এবং প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে, স্থানীয়দের দাবি—শীতার্ত ও চরাঞ্চলের মানুষের জন্য দ্রুত পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র বিতরণসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...