বিজ্ঞাপন
গোপালগঞ্জ আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক আবু সুফিয়ান জানান, আজ ভোর ৬টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ। গত পাঁচ দিন ধরে এ অঞ্চলে সূর্যের দেখা মেলেনি। দিনভর ঘন কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ায় জবুথবু অবস্থা বিরাজ করছে।
নিম্ন জলাভূমি অধ্যুষিত কোটালীপাড়া উপজেলায় শীতের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে কৃষি খাতে। সূর্যের অনুপস্থিতি ও তীব্র ঠান্ডায় কৃষকেরা সময়মতো মাঠে নামতে পারছেন না। ফলে বোরো ধানের চারা রোপণ ও চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে, যা নিয়ে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
অন্যদিকে, কাজ হারিয়ে বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষ। ঘাঘর ব্রিজ এলাকায় ভ্যানচালক শুকর আলী (৫০) বলেন, “পেটের তাগিদে রাস্তায় নামলেও যাত্রী নেই। খুব প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছে না।” খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা গেছে অনেক শ্রমজীবী মানুষকে।
তীব্র শীতে শিশুদের নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া এবং বয়স্কদের শ্বাসকষ্ট ও সর্দি-কাশির মতো ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ বেড়েছে। কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কুমার মৃদুল দাস জানান, হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ কয়েক গুণ বেড়েছে। জনবল ও চিকিৎসক সংকটের মধ্যেও সাধ্যমতো সেবা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
শীতের প্রকোপ মোকাবিলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ তৎপরতা শুরু হয়েছে। কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সাগুফতা হক জানান, সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত কম্বল ইতোমধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বিতরণ করা হচ্ছে। দুস্থ ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই কার্যক্রম শীত থাকা পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।
মানুষের পাশাপাশি গবাদিপশু ও পাখিরাও এই তীব্র ঠান্ডায় চরম কষ্টে রয়েছে। আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত এই দুর্ভোগ কমার সম্ভাবনা দেখছেন না স্থানীয়রা।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...