Logo Logo

স্বাস্থ্যসেবা বঞ্চিত হাজার হাজার মানুষ

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতিতে স্থবিরতা


Splash Image

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতিতে চরম অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের কর্মস্থলে না পাওয়া এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে চিকিৎসকদের অনুপস্থিতির কারণে পুরো উপজেলার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের মাঝে এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।


বিজ্ঞাপন


সরেজমিনে গত মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, গুরুত্বপূর্ণ চেয়ারগুলো শূন্য পড়ে আছে। কার্যালয়ের তিন প্রধান কর্মকর্তার কাউকেই পাওয়া যায়নি। এছাড়া অফিস সহকারী ও কম্পিউটার অপারেটর সাইফুল ইসলাম, ক্যাশিয়ার রেহানা পারভীন এবং ডা. কাজী সাবেকাতুন নজুমও কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন।

কার্যালয়ের প্রধান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক সফিকুল ইসলাম জানান, সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. গায়ত্রী বিশ্বাস গত ২৪ ডিসেম্বর থেকে ছুটিতে ভারতে অবস্থান করছেন। আগামী ১৫ জানুয়ারি তার কর্মস্থলে ফেরার কথা রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি বিভিন্ন অজুহাতে প্রায়ই ছুটিতে থাকেন, যার ফলে দাপ্তরিক কাজে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়।

অনুপস্থিত অন্যান্য কর্মচারী সাইফুল ইসলাম ও রেহানা পারভীন মোবাইলে দাবি করেছেন, তারা শারীরিক অসুস্থতার কারণে যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে ছুটি নিয়েছেন।

তদন্তে জানা গেছে, মেডিকেল অফিসার নাদিরা খানম (উলপুর), সহকারি সার্জন রিম্পা বিশ্বাস (দুর্গাপুর) এবং ডা. কাজী সাবেকাতুন নজুমের (লতিফপুর) নিজ নিজ ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করার কথা থাকলেও তারা সেখানে যাননি। ডা. রিম্পা বিশ্বাস জানান, তিনি ও ডা. নাদিরা বর্তমানে গোপালগঞ্জ বক্ষব্যাধি হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে, ডা. সাবেকাতুন নজুম ছুটিতে রয়েছেন বলে জানানো হয়।

গোপালগঞ্জ সদরের ১৩টি ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে চিত্রটি ভিন্ন। বেশিরভাগ মেডিকেল অফিসার দীর্ঘকাল ধরে ‘সংযুক্তি’ বা ডেপুটেশনে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন স্বনামধন্য হাসপাতাল যেমন— সুপ্রিম কোর্ট হাসপাতাল, জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট, সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে কর্মরত আছেন।

চিকিৎসকদের এই রাজধানীমুখী প্রবণতা এবং মাঠ পর্যায়ে এসএসিএমও (SACMO) না থাকায় গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। ফলে সাধারণ মানুষ সামান্য চিকিৎসার জন্য জেলা শহরে ছুটতে বাধ্য হচ্ছেন।

উপজেলার স্বাস্থ্য বিভাগের এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি নিয়ে সিভিল সার্জন ডা. আবু সাঈদ মোহাম্মদ ফারুকের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. দিবাকর বিশ্বাস অসহায়ত্ব প্রকাশ করে বলেন, “আসলে আমাদের কিছু করার নাই। উপরমহলের নির্দেশেই সবকিছু চলে।”

গোপালগঞ্জ সদরের এই স্বাস্থ্য সংকটে দ্রুত উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...