বিজ্ঞাপন
বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার তারাশী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দেখা যায় এক আবেগঘন পরিবেশ। তীব্র শীত থেকে বাঁচতে সড়কের পাশে আগুন জ্বালিয়ে তাপ নিচ্ছিলেন একদল ভ্যানচালক ও দিনমজুর। ঠিক সেই মুহূর্তে উপজেলা প্রশাসনের গাড়ি নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন ইউএনও।
তারাশী গ্রামের ভ্যানচালক ওমর আলী নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, "রাত সাড়ে ৮টার দিকে আমরা আগুন জ্বালিয়ে শীত পোহাচ্ছিলাম। হঠাৎ তিনটা গাড়ি এসে থামলে প্রথমে ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। পরে দেখি ইউএনও স্যার নিজে কম্বল হাতে আমাদের সামনে দাঁড়িয়েছেন। ভয় মুহূর্তেই আনন্দে বদলে গেল। এই গভীর রাতে কেউ আমাদের কথা ভাববে, তা কল্পনাও করিনি।"
রাতের এই মানবিক অভিযানে বাদ পড়েনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও। তারাশী সামছুল উলুম মাদ্রাসা ও এতিমখানার নুরানী বিভাগের শিক্ষার্থী জোবায়ের হোসেন জানায়, মাগরিবের নামাজের পর তারা কোরআন পড়ছিল। হঠাৎ ইউএনও স্যার আসার খবর পেয়ে নিচে নেমে দেখে প্রশাসনের কর্মকর্তারা কম্বল হাতে দাঁড়িয়ে আছেন। ওই মাদ্রাসার ২০ জন শিক্ষার্থীকে তাৎক্ষণিকভাবে কম্বল প্রদান করা হয়।
কোটালীপাড়ায় সাম্প্রতিক সময়ে শীতের তীব্রতা চরম আকার ধারণ করেছে। বুধবার এই এলাকায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এই পরিস্থিতিতে শীতার্ত মানুষের কষ্ট লাঘবে মাঠে নেমেছে উপজেলা প্রশাসন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সাগুফতা হক বলেন, "কয়েকদিন ধরে এখানে শীতের তীব্রতা অনেক বেড়েছে। সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘবে আমরা রাতের বেলাতেই পথে-প্রান্তরে ও এতিমখানাগুলোতে কম্বল পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছি। দিনের দাপ্তরিক কাজ শেষে নিয়মিতভাবেই সন্ধ্যার পর আমাদের কর্মকর্তারা শীতার্তদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। শীত থাকা পর্যন্ত এই মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।"
কম্বল বিতরণকালে ইউএনও সাগুফতা হকের সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাসুম বিল্লাহ, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. শাহজাহান সিরাজসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত কম্বলগুলো ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমেও সুষমভাবে বিতরণ করা হচ্ছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...