বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকালে কবির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ফরিদপুর শহরতলীর কুমার নদের পাড়ে অম্বিকাপুরস্থ কবির সমাধিতে জেলা প্রশাসন, জসীম ফাউন্ডেশন ও ফরিদপুর প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে।
সকাল সাড়ে ১০টায় কবির সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচির সূচনা হয়। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে কবির আত্মার মাগফিরাত কামনায় মিলাদ, দোয়া মাহফিল ও এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান মোল্লা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সুস্মিতা সাহা, পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক এম এ সামাদ, ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি কবিরুল ইসলাম সিদ্দীকি, সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন পিয়াল, জেলা কালচারাল অফিসার সাইফুল হাসান মিলনসহ জেলার বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, জসীম উদ্দীন তার লেখনীর মাধ্যমে বাংলার পল্লিপ্রকৃতি ও সাধারণ মানুষের জীবনগাথা বিশ্বসাহিত্যের দরবারে তুলে ধরেছেন। ‘নকশী কাঁথার মাঠ’ কিংবা ‘সোজন বাদিয়ার ঘাট’-এর মতো অমর সৃষ্টির মাধ্যমে তিনি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
পল্লীকবি জসীম উদ্দীনের বাবা আনসার উদ্দিন মোল্লা ছিলেন একজন স্কুল শিক্ষক এবং মা আমিনা খাতুন (রাঙাছুট)। কবির শিক্ষাজীবন শুরু হয় ফরিদপুর ওয়েলফেয়ার স্কুলে, পরবর্তীতে তিনি ফরিদপুর জিলা স্কুল থেকে ১৯২১ সালে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি কলকাতায় যান এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৯ সালে বিএ ও ১৯৩১ সালে বাংলা বিষয়ে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন।
ব্যক্তিজীবনে ১৯৩৯ সালে তিনি মমতাজ বেগমের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের তিন সন্তান—ড. জামাল আনোয়ার, খুরশিদ আনোয়ার ও আনোয়ার হাসু।
কবির ‘কবর’ কবিতাটি বাংলা সাহিত্যের এক অনন্য সম্পদ। এছাড়াও ‘এক পয়সার বাঁশি’, ‘রাখালী’, ‘বালুচর’ সহ অসংখ্য কাব্যগ্রন্থ, নাটক ও লোকসংগীতের মাধ্যমে তিনি বাঙালির হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। ১৯৭৬ সালের ১৪ মার্চ এই মহান কবি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন এবং তার ইচ্ছা অনুযায়ী ফরিদপুরের অম্বিকাপুরে ডালিম গাছের তলায় তাকে সমাহিত করা হয়।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...