বিজ্ঞাপন
এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন ছিন্নমূল মানুষ, দিনমজুর ও কৃষকরা। প্রচণ্ড ঠান্ডার কারণে তারা কাজে নামতে পারছেন না, ফলে দৈনন্দিন আয় ব্যাহত হচ্ছে।
গোপালগঞ্জ আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আজ বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু সুফিয়ান জানান, জেলার ওপর দিয়ে বর্তমানে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। সকাল ৬টায় ৮.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ এবং মাঝারি ধরনের কুয়াশার কারণে দৃষ্টিসীমা নেমে আসে প্রায় ৩০০ মিটারে।
তিনি আরও বলেন, বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) এর তুলনায় বৃহস্পতিবার তাপমাত্রা কিছুটা বেড়েছে এবং বর্তমানে মৃদু শৈত্যপ্রবাহের অবস্থা বিরাজ করছে। সকালে সূর্যের আলো ফুটে ওঠায় তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামীকাল শুক্রবারও শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকবে, তবে দিন ও রাতের তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তে পারে। শনিবার থেকে শীতের তীব্রতা কমে তাপমাত্রা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আগামী ৫ জানুয়ারি থেকে ফের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে বলে জানান তিনি।
এদিকে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. জীবিতেষ বিশ্বাস জানান, শীতকালে শিশু ও বৃদ্ধরা নিউমোনিয়াসহ জ্বর, সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্টে বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকেন। এসব ঝুঁকি এড়াতে তাদের ঠান্ডা থেকে বিরত থেকে উষ্ণ পরিবেশে থাকার পরামর্শ দেন তিনি। তবে এখন পর্যন্ত হাসপাতালে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীদের তেমন চাপ নেই বলেও জানান তিনি।
শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে স্থানীয় প্রশাসনও তৎপর রয়েছে। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) হাড় কাঁপানো শীতের রাতে কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাগুফতা হক মাদ্রাসার এতিম শিক্ষার্থী, ছিন্নমূল মানুষ ও দিনমজুরদের মাঝে কম্বল বিতরণ করেন।
জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান জানান, জেলাব্যাপী জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...