বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে উপজেলার সব সরকারি ও বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বই বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়। প্রাথমিক স্তরের সব শিক্ষার্থী প্রথম দিনেই সম্পূর্ণ পাঠ্যবই পেয়েছেন। তবে মাধ্যমিক স্তরে কেবল নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীরাই সব বিষয়ের বই হাতে পেয়েছেন। অন্যান্য শ্রেণির কিছু বিষয়ের বই এখনো বিদ্যালয়ে পৌঁছায়নি।
তারাশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাগুফতা হক। এ সময় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখর রঞ্জন ভক্তসহ শিক্ষা দপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাগুফতা হক বলেন, “রাষ্ট্রীয় শোকের কারণে এ বছর কোথাও বই উৎসবের আয়োজন করা হয়নি। তবে আমরা বিভিন্ন বিদ্যালয় পরিদর্শন করে নিশ্চিত করছি, যেন সব শিক্ষার্থী সময়মতো নতুন বই পায়।”
প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা নতুন বই পেয়ে ব্যাপক আনন্দ প্রকাশ করেছে। তবে মাধ্যমিক স্তরের সব বিষয়ের বই একসঙ্গে না পাওয়ায় কিছু শিক্ষার্থী হতাশা প্রকাশ করেছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখর রঞ্জন ভক্ত জানান, কোটালীপাড়া উপজেলায় ১৮৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ৫৯টি বেসরকারি (কিন্ডারগার্টেন) প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা ২৩,১১৮ জন। চাহিদা অনুযায়ী সমপরিমাণ বই ইতোমধ্যে সরবরাহ করা হয়েছে।
তারাশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাসনিয়া জান্নাত রাইফা এবং তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী তাহসিনা নূর তুষ্টি জানায়, নতুন বই পেয়ে তারা খুবই আনন্দিত এবং শিগগিরই পড়াশোনা শুরু করবে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অশোক অধিকারী বলেন, “আমাদের বিদ্যালয়ে সব শিক্ষার্থীর জন্য পর্যাপ্ত বই এসেছে। যারা উপস্থিত ছিল তাদের সবাইকে বই দেওয়া হয়েছে। অনুপস্থিত শিক্ষার্থীরা আগামী রোববার বিদ্যালয়ে এসে বই সংগ্রহ করবে।”
কমলকুঁড়ি বিদ্যানিকেতনের প্রধান শিক্ষক ইদ্রিসুর রহমান জানান, আজ শুধুমাত্র নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা সব বিষয়ের বই পেয়েছেন। ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ৬টি, সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ৫টি এবং অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ৩টি বিষয়ের বই পেয়েছেন।
উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার জসীম উদ্দীন বলেন, “নবম শ্রেণির সব বই ইতোমধ্যে এসেছে। অন্যান্য শ্রেণির কিছু বিষয়ের বই এখনও আসেনি। আশা করছি খুব দ্রুত বইগুলো হাতে পৌঁছাবে এবং সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যালয়গুলোতে বিতরণ করা হবে।”
নতুন বই পাওয়া শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরাও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা মনে করেন, বছরের প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই পৌঁছে দেওয়া সরকারের একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ, যা শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনায় আগ্রহী করবে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...