Logo Logo

লখন্ডা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের মুক্তির দাবি


Splash Image

মাদারীপুর জেলার রাজৈর উপজেলার লখন্ডা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক যুগল তালুকদারকে (৫২) গ্রেফতার করে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করা হচ্ছে—এমন অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মচারী, অভিভাবক ও স্থানীয় গ্রামবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা দ্রুত প্রধান শিক্ষকের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছেন।


বিজ্ঞাপন


গ্রেফতারকৃত যুগল তালুকদার লখন্ডা গ্রামের চিত্র রঞ্জন তালুকদারের ছেলে। তিনি দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে লখন্ডা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। বিদ্যালয়টি মাদারীপুর জেলার রাজৈর উপজেলা ও গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী লখন্ডা গ্রামে অবস্থিত। এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজৈর ও কোটালীপাড়া উপজেলার প্রায় এক হাজার ২০০ শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত রয়েছে। দুই উপজেলার শিক্ষার্থীদের মাঝে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিয়ে চলেছে এই বিদ্যাপীঠ।

স্থানীয়দের মতে, লখন্ডা উচ্চ বিদ্যালয়ে আলোকবর্তিকা হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা বিস্তারে নিরলস ভূমিকা রেখে আসছেন প্রধান শিক্ষক যুগল তালুকদার। এসএসসি ও জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় বিদ্যালয়টি প্রতিবছরই অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করে আসছে। এই বিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করে বহু শিক্ষার্থী বর্তমানে সরকারি ও বেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত রয়েছেন। কেউ হয়েছেন চিকিৎসক, ইঞ্জিনিয়ার, পেশাজীবী কিংবা সফল উদ্যোক্তা। একজন মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবে প্রধান শিক্ষক যুগল তালুকদার এলাকায় অত্যন্ত সৎ, নিরীহ ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ হিসেবে পরিচিত। যুক্তি, জ্ঞান, বিজ্ঞান ও শান্তির চর্চায় তিনি সর্বদা নিয়োজিত ছিলেন বলে জানান স্থানীয়রা। তার বিরুদ্ধে কোনো রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগও নেই। কখনো তাকে কোনো মিছিল, মিটিং বা রাজনৈতিক সভা-সমাবেশে দেখা যায়নি।

বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও কোটালীপাড়া উপজেলার সাদুল্লাহপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হরিপদ বিশ্বাস বলেন, “শিক্ষকতা ছাড়া যুগল তালুকদার অন্য কোনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন। মানসম্মত শিক্ষা বিস্তার ও শিক্ষার্থীদের মানসিক উন্নয়নে তিনি নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। শিক্ষকতাই তার ধ্যান-জ্ঞান। তাকে রাজনৈতিক নাশকতা বা হত্যা মামলায় জড়ানো অত্যন্ত দুঃখজনক এবং শিক্ষক সমাজের জন্য অশুভ সংকেত। আমি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানাচ্ছি।”

লখন্ডা গ্রামের সমাজসেবক পুলিন বিশ্বাস অভিযোগ করে বলেন, গত ১৮ নভেম্বর মাদারীপুর জেলার কামালদি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সড়ক অবরোধের একটি ঘটনা ঘটে। পরদিন ওই ঘটনায় ১২০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় প্রধান শিক্ষক যুগল তালুকদারকে অজ্ঞাত আসামি দেখিয়ে পুলিশ আদালতে পাঠিয়েছে। অথচ ঘটনার দিন, ১৮ নভেম্বর, তিনি বিদ্যালয়েই উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ২০২৫ সালের ৫ জানুয়ারি যাত্রাবাড়ী হত্যা মামলায়ও তাকে গ্রেফতার দেখানোর ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ করা হয়। ওই দিনও তিনি স্কুলে ছিলেন এবং বিদ্যালয়ের একটি রেজুলেশন সম্পন্ন করেন। এসব তথ্য থাকা সত্ত্বেও একজন নিরপরাধ শিক্ষাবিদকে হয়রানি না করার আহ্বান জানান তিনি।

লখন্ডা গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা সনাতন বাড়ৈ বলেন, প্রধান শিক্ষক কারাগারে থাকায় বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার নির্বাচনী পরীক্ষা শেষ হয়েছে এবং ফলাফলও ঘোষণা করা হয়েছে। উত্তীর্ণ শতাধিক শিক্ষার্থীর চূড়ান্ত পরীক্ষার প্রস্তুতিতে এখন বিশেষ যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। প্রতিবছর প্রধান শিক্ষক নিজ উদ্যোগে অন্যান্য শিক্ষকদের সঙ্গে সমন্বয় করে এই প্রস্তুতি কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকেন। তাই শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ও শিক্ষার স্বার্থে দ্রুত প্রধান শিক্ষকের মুক্তি একান্ত প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এ বিষয়ে মাদারীপুর জেলার রাজৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শেখ আমিনুল ইসলাম বলেন, রাজনৈতিক মামলায় যুগল তালুকদারকে গত ২৬ ডিসেম্বর গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তাকে মাদারীপুর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

স্থানীয়দের দাবি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন করে একজন নিরপরাধ শিক্ষাবিদকে হয়রানি থেকে রক্ষা করা এবং দ্রুত মুক্তি দেওয়া হোক।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...