Logo Logo

শীতের তীব্রতায় ফেনীতে জনজীবন বিপর্যস্ত


Splash Image

জেলায় জেঁকে বসেছে হাড়কাঁপানো শীত। ঘন কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। শনিবার সকালে জেলায় চলতি শীত মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দিনের বেলাতেও সূর্যের দেখা না মেলায় কনকনে ঠান্ডায় স্থবির হয়ে পড়েছে জনপদ।


বিজ্ঞাপন


জেলা আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, শনিবার সকালে রেকর্ডকৃত ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াসই চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। এর আগে গত শুক্রবার ১৩.৫ ডিগ্রি এবং গতকাল রবিবার ১২.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল। বর্তমানে জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা অবস্থান করছে ১৯.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে।

জেলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মজিবুর রহমান জানান, গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে জেলায় শীতের তীব্রতা বাড়তে শুরু করে। মাঝে বুধবার থেকে দিনের বেলা সূর্যের দেখা মিললেও রাতের তাপমাত্রা কমে শীত আরও তীব্র হচ্ছে। তিনি আরও জানান, আবহাওয়ার এই পরিস্থিতি আগামী ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।

শীতের তীব্রতায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর, ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং পরিবহন শ্রমিকরা। বিশেষ করে সিএনজি ও অটোরিকশা চালকরা ঠান্ডায় জুবুথুবু হয়ে বসে আছেন, যাত্রী সংকটে কমে গেছে তাদের আয়। বৃষ্টির মতো ঝরে পড়া ঘন কুয়াশার কারণে মোটরসাইকেল আরোহীদের চলাচলেও চরম বিঘ্ন ঘটছে। দুপুর ১১টা বেজে গেলেও কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকছে চারপাশ, যা জনজীবনকে কার্যত ঘরবন্দী করে ফেলেছে।

ফেনী শহর পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। সরকারি-বেসরকারি চাকুরিজীবী ও ব্যবসায়ীরা অনেকটা বাধ্য হয়েই ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন। স্থানীয়দের মতে, বিগত কয়েক বছরের তুলনায় এবার শীতের প্রকোপ অনেক বেশি।

এদিকে, শীতার্ত মানুষের কষ্ট লাঘবে এগিয়ে এসেছে জেলার বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন। শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে অসহায় মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করতে দেখা গেছে এসব সংগঠনের কর্মীদের।

জানুয়ারিতে শীতের তীব্রতা আরও বাড়লে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে বয়স্ক ও শিশুদের ঠান্ডাজনিত রোগবালাই বাড়ার সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে। জানুয়ারি মাসে শীতের প্রকোপ বাড়লে সাধারণ মানুষের চলাচল এবং জীবনধারণ আরও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...