Logo Logo

শার্শায় গ্রাম পুলিশের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাত ও প্রতারণার অভিযোগ


Splash Image

যশোরের শার্শা উপজেলার ১নং ডিহি ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ মিলন হোসেনের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের অর্থ আত্মসাৎ ও বহুমুখী প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। জন্মনিবন্ধন সংশোধন, গর্ভবতী কার্ড এবং সরকারি টিউবওয়েল পাইয়ে দেওয়ার নাম করে লাখো টাকা হাতিয়ে নিয়ে বর্তমানে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে। এলাকায় তিনি এখন 'চিটার মিলন' নামে পরিচিতি পেয়েছেন।


বিজ্ঞাপন


অনুসন্ধানে জানা যায়, মিলন হোসেন দীর্ঘদিন ধরে ডিহি ইউনিয়নে গ্রাম পুলিশ হিসেবে কর্মরত থাকার সুবাদে ট্রেড লাইসেন্স ও নাগরিক সনদসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজ করিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিতেন। সম্প্রতি এক ব্যক্তি তার সন্তানের জন্মনিবন্ধনের জন্য মিলনের শরণাপন্ন হলে, মিলন স্বামী-স্ত্রীর জন্মনিবন্ধন আগে করার কথা বলে ২,৫০০ টাকা দাবি করেন। টাকা দেওয়ার দীর্ঘ সময় পার হলেও কাজ না হওয়ায় ভুক্তভোগী ব্যক্তি ইউনিয়ন প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ জানান।

অন্য এক ভুক্তভোগী জানান, জন্মনিবন্ধনে বয়স সংশোধন ও আইডি কার্ড করে দেওয়ার চুক্তিতে মিলনকে ৪,৫০০ টাকা দিয়েছেন তিনি। এছাড়া বেলতা গ্রামের দুটি পরিবারের কাছ থেকে গর্ভবতী কার্ড করে দেওয়ার নামে ৭,০০০ টাকা হাতিয়ে নেন মিলন। কাজ করতে ব্যর্থ হয়ে চাপের মুখে তিনি ভুক্তভোগীদের সোনালী ব্যাংকের একটি চেক প্রদান করেন, যা ব্যাংকে নিয়ে গেলে দেখা যায় অ্যাকাউন্টে কোনো টাকা নেই।

নির্ভরযোগ্য সূত্রমতে, ইউনিয়ন পরিষদে জমা হওয়া ৪টি আর্সেনিকমুক্ত টিউবওয়েলের আবেদনপত্র এবং নগদ ৪০,০০০ টাকা নিয়ে শার্শা উপজেলা সদরে জমা দেওয়ার উদ্দেশ্যে বের হন মিলন। এরপর থেকেই তিনি লাপাত্তা। বর্তমানে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

জানা গেছে, ইতিপূর্বেও মিলন দুইবার একই ধরনের প্রতারণার দায়ে চাকরিচ্যুত হওয়ার উপক্রম হয়েছিলেন। তবে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার তার পরিবারের কথা বিবেচনা করে তাকে সাধারণ ক্ষমা করেছিলেন। কিন্তু স্বভাব না বদলানোয় এবার জনরোষ চরমে পৌঁছেছে।

৬নং ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি করিমুল শেখ বলেন, "এ ধরনের ঘটনা সমাজের প্রতি আস্থা নষ্ট করে। জনগণের সেবা পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে অভিযুক্ত গ্রাম পুলিশকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।"

১নং ডিহি ইউনিয়নের দফাদার শরিফুল ইসলাম বলেন, "অনেকেই আমার কাছে মিলনের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে আসছেন। আমি তাদের ইউনিয়ন প্রশাসক স্যারের কাছে পাঠিয়েছি। মিলনের এসব কর্মকাণ্ডে পুরো গ্রাম পুলিশ বাহিনীর বদনাম হচ্ছে।"

ডিহি ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মো. নুর ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে জানান, "আমরা মিলনের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ পেয়েছি। তাকে শোকজ করে ৭ দিনের সময় দেওয়া হলেও সে কোনো জবাব দেয়নি এবং অফিসেও আসেনি। বর্তমানে সে পলাতক থাকায় তার বেতন-ভাতা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আমরা ইতিমধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর পাঠিয়েছি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে।"

প্রতারিত সাধারণ মানুষ এখন তাদের আত্মসাৎকৃত অর্থ ফেরত পেতে এবং এই প্রতারক গ্রাম পুলিশের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...