Logo Logo

গভীর সমুদ্রে প্লাস্টিক ও জেলিফিশের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার উদ্বেগ


Splash Image

বঙ্গোপসাগরের তলদেশে প্লাস্টিকের উপস্থিতি এবং জেলিফিশের অস্বাভাবিক আধিক্য নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি সমুদ্রের এই পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতাকে দেশের সামুদ্রিক অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।


বিজ্ঞাপন


মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকালে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বঙ্গোপসাগরের সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ ও ইকোসিস্টেম-সংক্রান্ত এক গবেষণা প্রতিবেদন হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। গবেষণা জাহাজ ‘আরভি ডক্টর ফ্রিডজফ ন্যানসেন’ কর্তৃক পরিচালিত এই জরিপ প্রতিবেদনটি প্রধান উপদেষ্টার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেয় সংশ্লিষ্ট কমিটি।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেস-এর অধ্যাপক সায়েদুর রহমান চৌধুরী বৈঠকে গবেষণার বিস্তারিত উপাত্ত তুলে ধরেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এবারের জরিপে বঙ্গোপসাগরে ৬৫ প্রজাতির নতুন জলজ প্রাণীর অস্তিত্ব শনাক্ত করা হয়েছে, যা আমাদের সমুদ্রসম্পদের বৈচিত্র্যকে নতুনভাবে পরিচিত করে। তবে এই সম্ভাবনার পাশাপাশি গভীর উদ্বেগের চিত্রও ফুটে উঠেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, সমুদ্রে জেলিফিশের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা মূলত অতিরিক্ত মাছ আহরণের ফলে সৃষ্ট পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতার একটি বড় লক্ষণ।

প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, সমুদ্রের দুই হাজার মিটার গভীরতায়ও প্লাস্টিকের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে, যা সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ। এছাড়া মাছের মজুত নিয়ে আশঙ্কাজনক তথ্য দিয়ে অধ্যাপক সায়েদুর জানান, ২০১৮ সালের তুলনায় গভীর সমুদ্রে বড় মাছের সংখ্যা যেমন কমেছে, তেমনি স্বল্প গভীরতার অঞ্চলেও মাছের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে।

বৈঠকে জানানো হয়, গভীর সমুদ্রে বর্তমানে ২৭০ থেকে ২৮০টি বড় ট্রলার মাছ ধরছে। এর মধ্যে অন্তত ৭০টি ট্রলার ‘সোনার’ (Sonar) প্রযুক্তি ব্যবহার করে ‘টার্গেটেড ফিশিং’ করছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার এই পদ্ধতিকে ‘আগ্রাসী’ আখ্যা দিয়ে বলেন, "এভাবে টার্গেটেড ফিশিং চলতে থাকলে বঙ্গোপসাগর দ্রুতই মাছশূন্য হয়ে পড়বে। সরকার ‘সোনার ফিশিং’ বন্ধের বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবে।"

নানা উদ্বেগের মাঝেও প্রতিবেদনে আশার কথা জানানো হয়েছে। বঙ্গোপসাগরে টুনা মাছের বিপুল সম্ভাবনা এবং সুন্দরবনের নিচে একটি **‘ফিশিং নার্সারি’**র সন্ধান মিলেছে। প্রধান উপদেষ্টা এই নার্সারি সংরক্ষণের জন্য কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন।

ড. ইউনূস বলেন, "বাংলাদেশের স্থলভাগের সমপরিমাণ জলভাগ থাকলেও আমরা এই সম্পদ পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারিনি।" সামুদ্রিক সক্ষমতা বাড়াতে যুক্তরাজ্যের রয়্যাল নেভির সার্ভে ভেসেল ‘এইচএমএস এন্টারপ্রাইজ’ বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে বলেও বৈঠকে জানানো হয়।

প্রধান উপদেষ্টা সামুদ্রিক অর্থনীতি বা 'ব্লু ইকোনমি'র গুরুত্ব তুলে ধরে জাপান, ইন্দোনেশিয়া ও মালদ্বীপের সঙ্গে যৌথ গবেষণার ওপর জোর দেন। তিনি বিশ্বাস করেন, বিশেষজ্ঞ জ্ঞান ও সঠিক পলিসি সাপোর্টের মাধ্যমেই এই খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন সম্ভব।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী এবং মৎস্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ড. মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...