বিজ্ঞাপন
স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা ক্ষিতিস পাত্র, বুলবুল পাত্র ও অধির পাত্রদের স্মৃতিচারণে উঠে আসে পেছনের গল্প। তাঁরা জানান, ১৯৮৫ সালের আগে কুশাল এলাকায় শিক্ষার কোনো নামগন্ধ ছিল না। এই অঞ্চলের শিশুদের অন্ধকার ভবিষ্যৎ দেখে এগিয়ে আসেন তৎকালীন একটি উন্নয়ন সংস্থায় কর্মরত শিক্ষানুরাগী নজমুল হক। ৩৩ শতাংশ জমির ওপর তিনি গড়ে তোলেন বিদ্যালয়টি। শুধু পরিকল্পনাতেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না তিনি, এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে নিজে হাতে টালিয়া (ইকর) কেটে নির্মাণ করেন স্কুলের ঘর। টিলার বুকে জন্ম নেয় কুশালের প্রথম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান চলছে। কিন্তু দীর্ঘ সময়েও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি এখানে। বর্তমানে মাত্র দুইজন শিক্ষক—সুইটি পাত্র ও সায়রা বেগম আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখতে। কোনো সরকারি বা বেসরকারি উল্লেখযোগ্য অনুদান ছাড়াই শিক্ষার্থীদের সামান্য বেতনে কোনোমতে টিকে আছে স্কুলটি। জনবল, শিক্ষা উপকরণ ও নড়বড়ে অবকাঠামো এখন পাঠদানের প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কুশালের এই বিদ্যালয়টি ছাড়াও শিক্ষা প্রসারে নজমুল হকের অবদান অনস্বীকার্য। তিনি নিজ জন্মস্থান সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার রৌয়াইল এলাকায় নিজস্ব অর্থায়নে একাধিক প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছেন। কোমলমতি শিশুদের শিক্ষার ভিত মজবুত করতে তাঁর এসব উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে প্রশংসিত। ১৯৯৩ সালে তাঁর প্রতিষ্ঠিত সংস্থা 'আইডিয়া' সিলেট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কিশোরগঞ্জ জেলায় দারিদ্র্য বিমোচন, স্বাস্থ্য, নারীর ক্ষমতায়ন ও শিক্ষা নিয়ে কাজ করে আসছে, যা সরকারের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবেও স্বীকৃত।
এলাকাবাসী ও শিক্ষকদের আক্ষেপ, যে স্কুলটি এই জনপদের বহু মানুষকে শিক্ষিত করে স্বাবলম্বী করেছে, সেটি আজও রয়ে গেছে অবহেলিত। তাঁদের দাবি, বিদ্যালয়টি সরকারি স্বীকৃতি পেলে পাঠদানের মান আরও উন্নত হবে এবং পিছিয়ে পড়া পাত্র সম্প্রদায় মূলধারার সাথে আরও দৃঢ়ভাবে যুক্ত হতে পারবে।
নজমুল হকের হাতে গড়া এই বিদ্যাপীঠটি এখন তাকিয়ে আছে সরকারের সুদৃষ্টির দিকে। কুশালের টিলায় শিক্ষার যে আলো তিনি জ্বেলেছিলেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে সেই আলো ছড়িয়ে পড়বে আরও বহুদূর—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...