বিজ্ঞাপন
মৃত মোতাহার হাওলাদারের স্ত্রী আজিমন নেছার নেই কোনো মাথা গোঁজার নিরাপদ ঠাঁই। কয়েকটি পুরনো টিন ও ভাঙাচোরা উপকরণ দিয়ে তৈরি একটি অস্থায়ী ও অবাসযোগ্য খুপরি ঘরে চরম ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন তিনি। ঘরের জরাজীর্ণ অবস্থার বর্ণনা দিতে গিয়ে দেখা যায়, চালের ফাঁক দিয়ে আকাশ দেখা যায়। বৃষ্টির সময় শরীর ভেজা থেকে বাঁচাতে পলিথিন জড়িয়ে বসে থাকতে হয় তাকে। আর বর্তমানে বয়ে চলা তীব্র শীতেও নেই তার পর্যাপ্ত কোনো শীতবস্ত্র।
বেঁচে থাকার তাগিদে তিনি কখনো মানুষের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করেন, কখনো সুপারি গাছের খোল বা লাকড়ি সংগ্রহ করেন। এমনকি ধান কাটার মৌসুমে ধানক্ষেতে ইঁদুরের গর্ত থেকে পড়ে থাকা ধান কুড়িয়ে তা বিক্রি করে কোনোমতে জীবিকা নির্বাহ করেন। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে পাশে নেই কোনো আপনজন, মেলেনি নিয়মিত কোনো সরকারি সহায়তাও।
আজিমন নেছার অসহায়ত্বের খবর উপজেলা প্রশাসনের নজরে এলে দ্রুত ব্যবস্থা নেন ইউএনও রিফাত আরা মৌরি। অসুস্থ শরীর নিয়েও তিনি রাতের আঁধারে সরাসরি ওই বৃদ্ধার জরাজীর্ণ বাড়িতে পৌঁছে যান। সেখানে গিয়ে আজিমন নেছার খোঁজখবর নেন এবং সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক খাদ্যসামগ্রী ও শীতবস্ত্র (কম্বল) তার হাতে তুলে দেন।
হেনরি ডেভিড থোরোর বিখ্যাত উক্তি, “মানবসেবা শুধু কর্তব্য নয়, এটি মানবতার সবচেয়ে সুন্দর রূপ”— যেন বাস্তবে প্রতিফলিত হলো রাজাপুরের এই নিভৃত পল্লীতে।
সহায়তা প্রদানকালে ইউএনও রিফাত আরা মৌরি আজিমন নেছাকে আশ্বস্ত করে বলেন, "খুব শিগগিরই আপনার জন্য সরকারিভাবে একটি স্থায়ী নিরাপদ বসতঘরের ব্যবস্থা করা হবে।" প্রশাসনের পক্ষ থেকে এমন প্রতিশ্রুতি পাওয়ার পর আজিমন নেছার চোখেমুখে আশার আলো দেখা যায়।
উপজেলা প্রশাসনের এই মানবিক উদ্যোগে স্থানীয় বাসিন্দারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা জানান, একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার এভাবে প্রান্তিক পর্যায়ের অসহায় মানুষের দ্বারে দ্বারে পৌঁছে যাওয়া সমাজে মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করবে। এই উদ্যোগ সমাজের বিত্তবান ও অন্যদেরও অসহায় মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে বলে তারা বিশ্বাস করেন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...