Logo Logo

“আইজ এই কম্বল পাইয়া মনে অইছে, রাইতে ঘুমডা আরামের হবেন।


Splash Image

"নদী ভাঙনের শিকার হইছি কয়েকবার। শীত নামলে আমাগোরে জীবন থাইমা যায়। ঘরে আলো নাই, পাটখড়ির বেড়ার ফাঁক দিয়া হু হু কইরা বাতাস ঢোকে। আইজ এই কম্বলটা পাইয়া মনে অইতাছে, রাইতে ঘুমডা অন্তত আরামের হবেনে।" হাতে একটি নতুন কম্বল পেয়ে পরম মমতায় কথাগুলো বলছিলেন ৮৭ বছর বয়সী রাহেলা বিবি। তিনি ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার দুর্গম দিয়ারা নারকেল বাড়িয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা।


বিজ্ঞাপন


রাহেলা বিবির মতো এমন ২৩৫ জন অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়েছে প্রথম আলো ট্রাস্ট। বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকালে পদ্মা নদী দ্বারা মূল ভূখণ্ড থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন এই ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের দরিদ্র ও শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র হিসেবে কম্বল বিতরণ করেন প্রথম আলো বন্ধুসভার সদস্যরা। শীতের প্রকোপ বাড়ায় চরাঞ্চলের এই মানুষগুলোর জীবন যখন ওষ্ঠাগত, ঠিক তখনই সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয় সংগঠনটি।

সদরপুরের এই ইউনিয়নটি ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত দুর্গম। নদীতে নৌকা বা ট্রলার ছাড়া যাতায়াতের বিকল্প কোনো উপায় নেই। প্রায় ১৪ হাজার মানুষের বসবাস এই চরে। শীতের তীব্রতা বাড়লে নদী পারের হাড়কাঁপানো বাতাসে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন শিশু ও বৃদ্ধরা। কাকডাকা ভোরে ফরিদপুর থেকে লেগুনায় করে কম্বল নিয়ে সদরপুরের শয়তানখালি ঘাটে পৌঁছান স্বেচ্ছাসেবীরা। সেখান থেকে উত্তাল পদ্মা পাড়ি দিয়ে ট্রলারে করে তারা পৌঁছান দুর্গম নন্দলালপুরে।

কম্বল বিতরণকালে ৮৩ বছর বয়সী মুনছুরা খাতুন বলেন, "আমি ঠিকমতো খাড়াইতে (দাঁড়াতে) পারি না। শীত আইলে বুক ধইরা আসে। আজ কম্বলটা পাইয়া আল্লারে ডাক দিছি। যারা দিছে আল্লাহ তাগো সুস্থ রাখুক।" স্থানীয় দর্জিকান্দি গ্রামের আমেনা বিবি (৮৯) ও খলিফাকান্দি গ্রামের মতলেব শেখও (৮১) কম্বল পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তারা জানান, দুর্গম এলাকা হওয়ায় এখানে সাধারণত কেউ সাহায্য নিয়ে আসে না, ফলে শীতে তাদের কষ্টের সীমা থাকে না।

দিয়ারা নারকেল বাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নাসির উদ্দিন প্রথম আলো ট্রাস্টের এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, "আমার ইউনিয়নটি ফরিদপুরের সবচেয়ে দুর্গম এলাকা। সরকারি যে বরাদ্দ আসে, তা চাহিদার তুলনায় খুবই নগণ্য। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ট্রলার পাড়ি দিয়ে কেউ এখানে আসতে চায় না। প্রথম আলো ট্রাস্ট সত্যিকারের অভাবী মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে।"

উল্লেখ্য, দিয়ারা নারকেল বাড়িয়া ছাড়াও নুরুদ্দিন সরদারেরকান্দি, কুদ্দুস মোল্লারকান্দি, শিকদারকান্দি ও দাফাকান্দিসহ ১৪টি গ্রামের পিছিয়ে পড়া মানুষের মাঝে এই কম্বল বিতরণ করা হয়।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...