Logo Logo

কাশিয়ানীতে অবৈধভাবে কৃষি জমি কেটে ঘের তৈরি, হুমকিতে চাষাবাদ


Splash Image

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায় বর্ষার পানি নামার সাথে সাথেই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অবৈধভাবে কৃষি জমি কেটে মাছের ঘের তৈরির প্রবণতা। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে যথেচ্ছভাবে এক্সকাভেটর (ভেকু) মেশিন দিয়ে ফসলি জমির শ্রেণি পরিবর্তন করায় আশঙ্কাজনক হারে কমছে আবাদি জমির পরিমাণ। অপরিকল্পিত এই ঘের খননের ফলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টিসহ উৎপাদিত ফসল আনা-নেওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।


বিজ্ঞাপন


জেলার কাশিয়ানী উপজেলার রাজপাট ইউনিয়নের সিংগা মধ্যপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায় আবাদি জমির বুক চিরে চলছে গভীর ঘের খননের কাজ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার কংশুর গ্রামের সিরাজ মিয়ার ছেলে আব্দুল কাদের জিলানী (২৪) ওই এলাকায় প্রায় ৬ বিঘা কৃষি জমি ক্রয় করে চলতি মাসের শুরু থেকে ঘের খনন শুরু করেছেন। জমির উপরিভাগের উর্বর মাটি সরিয়ে গভীর গর্ত করায় পার্শ্ববর্তী জমির মালিকরা তাদের জমি ধসে যাওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন। এর ফলে বাধ্য হয়ে অনেক প্রতিবেশী কৃষকও তাদের জমিতে ঘের করার কথা ভাবছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে কৃষি ব্যবস্থার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি বা জমির শ্রেণি পরিবর্তন না করে কেন ঘের কাটা হচ্ছে—এমন প্রশ্নের জবাবে অভিযুক্ত আব্দুল কাদের জিলানী ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন। তিনি বলেন, "আমার জমিতে আমি ঘের কাটবো, এটা আমার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। এ কাজে কেউ বাধা দিলে তা আমি মানবো না।" এমনকি প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেও তিনি কাজ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

এ বিষয়ে রাজপাট ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, কৃষি জমিতে অবৈধভাবে পুকুর বা ঘের খনন করা দণ্ডনীয় অপরাধ। তিনি বলেন, "আমি সরেজমিন গিয়ে জিলানীকে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি তা অমান্য করে আমাকে বলেন— 'আমি আমার জমিতে ঘের কাটবো, আপনার যা করার করতে পারেন'।"

সাইফুল ইসলাম আরও জানান, বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন-২০১০ অনুযায়ী, কৃষি জমির শ্রেণি পরিবর্তন বা অবৈধ মাটি কাটার অপরাধে সর্বনিম্ন ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং দুই বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। বিষয়টি ইতোমধ্যে কাশিয়ানী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কে অবহিত করা হয়েছে।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, এভাবে অপরিকল্পিত ঘের তৈরির ফলে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে পানি সময়মতো নামতে না পারায় ফসল নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ছে। দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এই অবৈধ খনন কাজ বন্ধ না করলে ওই এলাকার বিশাল কৃষি এলাকা অচিরেই মৎস্য ঘেরে পরিণত হবে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...