বিজ্ঞাপন
রাখাইন রাজ্য থেকে আসা তথ্য ও রোহিঙ্গাদের ভাষ্যমতে, মিয়ানমারের জান্তা সরকারের হাত থেকে রাখাইনের বেশ কিছু শহর, গ্রাম ও সীমান্ত চৌকি বর্তমানে বিদ্রোহী গোষ্ঠী 'আরাকান আর্মি'র নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। এলাকায় জান্তা বাহিনীর অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ায় সেখানে এখন বহুমুখী লড়াই চলছে। মূলত মিয়ানমার সেনাবাহিনী, আরাকান আর্মি এবং রোহিঙ্গাদের কয়েকটি সশস্ত্র গ্রুপের মধ্যে চলমান এই 'ত্রিমুখী সংঘাতের' প্রভাব সরাসরি পড়ছে বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায়।
সীমান্তবর্তী হোয়াইক্যং এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, দিনের চেয়ে রাতে বিস্ফোরণের তীব্রতা অনেক বেড়ে যায়। হোয়াইক্যং ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সিরাজুল মোস্তফা লালু বলেন, "গত তিন দিন ধরে চলা এই বিস্ফোরণের শব্দে বাড়িঘর কেঁপে উঠছে। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা মারাত্মক আতঙ্কে আছেন। অনেকেই নিরাপত্তার অভাবে ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্য জায়গায় চলে যাওয়ার কথা ভাবছেন।"
পেশাগত কাজেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। নাফ নদী ও চিংড়ি ঘের সংলগ্ন এলাকায় কাজ করা জেলেরা বর্তমানে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। জেলে রাকিব হাসান জানান, "রাখাইন থেকে যেকোনো সময় গুলি বা গোলা এসে পড়ার ভয়ে আমরা নদীতে মাছ ধরতে যেতে পারছি না। জীবন বাঁচানোই এখন বড় দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।"
টেকনাফের হোয়াইক্যং সীমান্ত এলাকাটি সংঘর্ষের একদম কাছাকাছি হওয়ায় ঝুঁকি বেশি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। এর আগেও সীমান্তের ওপার থেকে আসা গুলিতে এপারে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইনামুল হাফিজ নাদিম বলেন, "সীমান্তের ওপারে সংঘর্ষের ঘটনায় আমরা বিজিবির (BGB) সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করছি। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে সীমান্তবর্তী বাসিন্দাদের নিরাপদ দূরত্বে থাকতে এবং সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত তদারকি চলছে।"
মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ এই অস্থিরতা ও সীমান্তের উত্তেজনা নিয়ে বিজিবি ও কোস্ট গার্ডের টহল জোরদার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রতিবেদক- মোহাম্মদ শাজাহান, কক্সবাজার।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...