Logo Logo

লালমোহনে জামায়াত ও বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে আহত ৩০


Splash Image

ভোলার লালমোহন উপজেলার রমাগঞ্জ ইউনিয়নের রায়চাঁদ বাজারে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং জামায়াত ইসলাম সমর্থিত কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।


বিজ্ঞাপন


শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সংঘটিত এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বর্তমানে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, শুক্রবার সকালে রমাগঞ্জ ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডে জামায়াতের নারী কর্মীদের সাংগঠনিক কাজে বাধা প্রদান ও হেনস্থাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ঘটনার বিষয়ে জামায়াত সমর্থিত বিডিপি প্রার্থী নিজামুল হক নাঈম অভিযোগ করেন, তাদের নারী কর্মীদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হেনস্থা করে স্থানীয় যুবক রুবেল। এর প্রতিবাদ করায় পরবর্তীতে ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিনের ওপর হামলা চালায় বিএনপির কর্মীরা।

অন্যদিকে, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বাবুলের দাবি, পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে মহিলা লীগের সন্ত্রাসীদের সহায়তায় জামায়াত ও বিডিপি কর্মীরা পরিকল্পিতভাবে এই অপতৎপরতা চালিয়েছে।

বিকেলে পুলিশি মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি সাময়িকভাবে শান্ত হলেও সন্ধ্যার পর রায়চাঁদ বাজারে জামায়াত সমর্থকদের মোটরসাইকেল মহড়াকে কেন্দ্র করে পুনরায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাস্তার কাজে ব্যবহৃত ইট-পাটকেল নিয়ে উভয় পক্ষ একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় রায়চাঁদ বাজার।

সংঘর্ষে গুরুতর আহতদের মধ্যে ৫ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভোলা ও ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৯ জন ভর্তি আছেন। বিএনপি নেতার দাবি অনুযায়ী তাদের যুবদল সভাপতি জসিমসহ ১২-১৫ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীর দাবি, তাদের ১৫ জন নেতাকর্মীকে পিটিয়ে জখম করা হয়েছে।

বিএনপি নেতা শফিকুল ইসলাম বাবুল বলেন, "আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও জামায়াতের ক্যাডাররা অতর্কিত হামলা চালিয়ে আমাদের নেতাকর্মীদের আহত করেছে। তারা নির্বাচন বানচাল করার ষড়যন্ত্র করছে। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।"

বিডিপি প্রার্থী নিজামুল হক নাঈম বলেন, "বিএনপি নেতারা ঘটনাস্থলে এসে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। আমাদের কর্মীরা বাজার থেকে চলে আসার সময় পেছন থেকে হামলা করা হয়। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা চাই।"

লালমোহন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. অলিউল ইসলাম জানান, "সকালে নারী কর্মীদের দাওয়াতি কাজে বাধা দেওয়া নিয়ে ঝামেলার সূত্রপাত। আমরা তা মীমাংসা করে দিয়েছিলাম। কিন্তু সন্ধ্যায় মোটরসাইকেল মহড়াকে কেন্দ্র করে পুনরায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং রায়চাঁদ বাজারে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।"

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...