ছবি : সংগৃহীত।
বিজ্ঞাপন
রোববার (১১ জানুয়ারি) বিকেলে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বিভিন্নভাবে তদন্ত চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত আসামিদের শনাক্ত করা হয়েছে। শনাক্তের পর ডিবির একাধিক টিম ঢাকা, গাজীপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোণা, ভৈরব ও কিশোরগঞ্জ এলাকায় একযোগে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে দুই শুটারের একজন জিন্নাত (২৪) কে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সঙ্গে ঘটনার মূল সমন্বয়কারী মো. বিল্লাল হোসেনকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিল্লালের বাবা শহীদুল্লাহর ভাই আব্দুল কাদির (২৮) ঘটনার পর আসামিদের পালাতে সহায়তা করায় তাকেও আটক করা হয়েছে। এছাড়া হত্যাকাণ্ডের আগে ঘটনাস্থলের রেকি করতে সহযোগিতাকারী মো. রিয়াজ (৩২) নামের আরেকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি নম্বরবিহীন মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া তাদের কাছ থেকে ৬ হাজার টাকা জব্দ করা হয়। মো. শফিকুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে এবং তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য ও আন্ডারওয়ার্ল্ডের সম্পৃক্ততা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঘটনাটি আলোচিত ছিল এবং ভিকটিম একজন রাজনৈতিক দলের নেতা। আপাতত আমরা আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। তবে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র এখনো উদ্ধার করা যায়নি। হত্যার প্রকৃত উদ্দেশ্য উদঘাটনে তদন্ত চলছে।
আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে জানতে চাইলে ডিবির এই কর্মকর্তা বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় পাওয়া যায়নি। এখানে আপন দুই ভাই গ্রেপ্তার হয়েছেন এবং তাদের আরেক ভাই পলাতক রয়েছে, যিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হত্যাকাণ্ডটি ব্যবসাকেন্দ্রীক। তবে ভিকটিম যেহেতু রাজনৈতিক নেতা ছিলেন, রাজনৈতিক কোনো কারণ জড়িত আছে কিনা, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। আসামিদের কারওয়ান বাজার এলাকায় ব্যবসা রয়েছে এবং রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে তাদের ওঠাবসা ছিল বলেও জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, এ ঘটনায় রহিম নামে অপর এক শুটার এখনো পলাতক রয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের পেছনে বিদেশ থেকে ১৫ লাখ টাকা পাঠানোর গুঞ্জন সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, এ সংক্রান্ত একাধিক বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর মধ্যে এই অর্থ লেনদেনের বিষয়টিও তদন্তাধীন রয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, কিছুদিন আগে মোছাব্বির চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে একটি মানববন্ধন করেছিলেন, যেখানে মারামারির ঘটনা ঘটে এবং সে ঘটনায় মামলা রয়েছে। পাশাপাশি তিনি একজন উদীয়মান ও জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতা ছিলেন—এই সব দিক বিবেচনায় নিয়ে হত্যাকাণ্ডের মোটিভ খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...