বিজ্ঞাপন
গতকাল রোববার (১১ জানুয়ারি) সকালে কলেজ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির এক শীর্ষ নেতার দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিরাপত্তার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জানা গেছে, রোববার সকাল ১১টার দিকে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি ও রুহের মাগফিরাত কামনায় এক দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে। অভিযোগ উঠেছে, সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছাড়াই কেবল শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সরাসরি রাজনৈতিক বার্তা প্রচার করা হয়েছে।
উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দিতে গিয়ে ফরিদপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ জুলফিকার হোসেন জুয়েল সরাসরি শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে বলেন, “ছাত্রদল রাজনীতি করতে না পারলে মেডিকেল কলেজ বন্ধ হয়ে যাবে।”
এই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা এখানে চিকিৎসা শাস্ত্র পড়তে এসেছি, কোনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হতে নয়। ক্যাম্পাসে রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও এ ধরনের প্রকাশ্য হুমকি আমাদের শিক্ষা জীবন ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ।”
এ বিষয়ে সৈয়দ জুলফিকার হোসেন জুয়েল গণমাধ্যমের কাছে দাবি করেন, প্রশাসন রাজনীতি বন্ধের অজুহাতে কেবল ছাত্রদলের কর্মকাণ্ডে বাধা দিচ্ছে। তিনি বলেন, “রাজনীতি বন্ধ হলে তা সবার জন্য সমানভাবে কার্যকর হতে হবে। বৈষম্যের শিকার হয়েই আমি এমন প্রতিবাদী বক্তব্য দিয়েছি।”
উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে ক্যাম্পাসে সকল প্রকার ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। এই নিষেধাজ্ঞার মাঝেই প্রকাশ্য রাজনৈতিক অবস্থান এবং অস্থিতিশীল পরিস্থিতির আশঙ্কায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা বর্তমানে আতঙ্কগ্রস্ত অবস্থায় রয়েছেন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...