বিজ্ঞাপন
রোববার (১১ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষ "স্বচ্ছতা"য় অনুষ্ঠিত জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ সহযোগিতা কামনা করেন।
জেলা প্রশাসক মোঃ আরিফ-উজ-জামান বলেন, "উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন করতে জেলা প্রশাসন বদ্ধপরিকর। রিটানিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব ও ব্যস্ততা বাড়লেও শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছি। নির্বাচনের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সময় অত্যন্ত সংবেদনশীল, তাই বরাবরের মতো সকল সদস্যের তথ্য ও পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা প্রয়োজন।"
মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শরীফ রফিকুজ্জামান বিগত সরকারের আমলের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, "টেকেরহাট-গোপালগঞ্জ আঞ্চলিক সড়ক এবং জেলা শহরের ড্রেন ও ফুটপাত নির্মাণে হাজার হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও দুর্নীতিবাজ নেতা, কর্মকর্তা ও ঠিকাদারদের যোগসাজশে নিম্নমানের কাজ হয়েছে। জনগণের টাকার এই লুটপাটের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার হওয়া জরুরি।" এছাড়াও তিনি হাসপাতালের সেবার মান বৃদ্ধির দাবি জানান।
সভায় প্রেসক্লাব গোপালগঞ্জের সভাপতি মোঃ জুবায়ের হোসেন এবং এনসিপি'র যুগ্ম সমন্বয়কারী রুবেল মোল্লা শহরের সড়কে অবৈধ নসিমন, ট্রলি ও ফিটনেসবিহীন গাড়ির বেপরোয়া চলাচল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা জানান, ধুলিকণা ও বালু ঢেকে পরিবহন না করায় জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির নেতা মওদুদ হোসেন রেন্টু হরিদাসপুর ব্রিজের ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাপ্রোচ দ্রুত সংস্কারের দাবি জানান।
জেলা পুলিশ সুপার মোঃ হাবীবুল্লাহ্ সভায় জানান, গত ডিসেম্বর মাসে জেলায় ৩৬ জন মারা গেছেন, যার মধ্যে ২০ জনই আত্মহত্যা করেছেন। আত্মহত্যার এই প্রবণতা রোধে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কাউন্সিলিং বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
মব জাস্টিস প্রসঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া যাবে না। অপরাধী যেই হোক, মব সৃষ্টি না করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে জানান। এছাড়া জমি সংক্রান্ত বিরোধে পুলিশ ভূমি উদ্ধারের ক্ষমতা রাখে না, তাই আইনি প্রক্রিয়ায় সমাধানের পরামর্শ দেন তিনি।"
তীব্র শীতে নবজাতক ও বৃদ্ধদের প্রতি যত্নবান হওয়ার পরামর্শ দেন জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ আবু সাঈদ মোঃ ফারুক। সভায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানগণ তাদের নিজ নিজ দপ্তরের কার্যক্রম ও সীমাবদ্ধতা তুলে ধরেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার, জেলা স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক, জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক, জেলা এনএসআই'র উপ-পরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক, সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনারগণ, সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপকগণ, জেলা কমান্ড্যান্টের প্রতিনিধি, জেলা বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দ, এনসিপি ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা, প্রেসক্লাব ও চেম্বার অফ কমার্সের প্রতিনিধিসহ অন্যান্য সদস্যরা।
সভায় সকলেই একযোগে ভোট ও নির্বাচনের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সর্বাত্মক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন।
প্রতিবেদক- কে এম সাইফুর রহমান, গোপালগঞ্জ।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...