ইনসেটে সহকারী শিক্ষক তপতী বাড়ৈ।
বিজ্ঞাপন
আজ সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের স্কুল থেকে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যান, যার ফলে বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শিফটের পাঠদান সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক তপতী বাড়ৈ-এর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের অনিয়ম, অরাজকতা এবং অশুভ আচরণের অভিযোগ তুলেছেন অভিভাবকরা। স্থানীয় অভিভাবক এমদাদ আলীর অভিযোগ, ওই শিক্ষিকা স্কুলে যোগদানের পর থেকেই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন। তিনি নিয়মিত ক্লাসে মোবাইল ব্যবহার করেন এবং নিজের শিশু সন্তানকে ক্লাসে নিয়ে এসে শিক্ষার্থীদের দিয়ে দেখাশোনা করান। প্রতিবাদ করলে অভিভাবকদের সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
অভিভাবক শাহনাজ বেগম ও শাহাদাত গাজী জানান, তপতী বাড়ৈর কারণে স্কুলে কোনো ভালো শিক্ষক থাকতে পারছেন না। তার ভয়ে শিক্ষার্থীরা তটস্থ থাকে। এমনকি এক শিক্ষা কর্মকর্তাকে ব্ল্যাকমেইল করে ২০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয়রা। অভিভাবকদের দাবি, তদন্ত প্রতিবেদন জমা হওয়ার এক মাস পার হলেও অদৃশ্য শক্তির ইশারায় তার বদলি কার্যকর হচ্ছিল না।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নমিতা মন্ডল জানান, "প্রথম শিফট চলাকালীন বেলা ১১টার দিকে হঠাৎ অভিভাবকরা এসে তাদের সন্তানদের শ্রেণিকক্ষ থেকে নিয়ে যান। তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তপতী বাড়ৈর স্থায়ী বদলি না হওয়া পর্যন্ত তারা কোনো সন্তানকে স্কুলে পাঠাবেন না। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে আমি তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে অবহিত করি।"
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন উপজেলা শিক্ষা অফিসার শেখর রঞ্জন ভক্ত। তিনি বিক্ষুব্ধ অভিভাবকদের শান্ত করার চেষ্টা করেন এবং জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশে অভিযুক্ত শিক্ষককে মৌখিকভাবে লোহারঙ্ক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অস্থায়ীভাবে বদলির নির্দেশ দেন।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানান, "অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন ইতিমধ্যেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তাকে অস্থায়ী বদলি করা হয়েছে এবং স্থায়ী বদলির প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।"
এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক তপতী বাড়ৈ সাংবাদিকদের সাথে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...