বিজ্ঞাপন
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সোমবার (১২ জানুয়ারি) আপিল শুনানির মাধ্যমে তার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণার পর স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা-কল্পনা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রত্যাবর্তন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে নতুন ইতিহাসের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ওয়ান পার্সেন্ট ভোটারের স্বাক্ষরসংক্রান্ত জটিলতার কারণে প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ে আশরাফুল আলম শিমুলের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে আইনি লড়াইয়ে পিছপা হননি তিনি। নির্বাচন কমিশনে আপিল করে নিজের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন এবং তৃতীয় দিনের শুনানিতে কমিশন তার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করে। এই সিদ্ধান্তের খবর এলাকায় পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই তার কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা ছড়িয়ে পড়ে।
আশরাফুল আলম শিমুল এই অঞ্চলের রাজনীতিতে সুপরিচিত ও আলোচিত নাম। তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে রয়েছে এক ব্যতিক্রমী রেকর্ড—এখন পর্যন্ত কোনো নির্বাচনে তিনি পরাজয়ের মুখ দেখেননি। ২০০৯ সালে মুকসুদপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান হিসেবে রাজনৈতিক যাত্রা শুরু করে ২০১৪ সালে উপজেলা চেয়ারম্যান এবং সর্বশেষ ২০২২ সালে মুকসুদপুর পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হন তিনি। প্রতিটি নির্বাচনেই নানা প্রতিকূলতা ও চাপ মোকাবিলা করে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছেন শিমুল। ফলে এবারের সংসদ নির্বাচনে তার সেই ‘অপরাজিত’ পরিচয় বজায় থাকবে কি না, তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
তার জনপ্রিয়তার পেছনে রয়েছে শক্ত পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্য। আশরাফুল আলম শিমুলের বাবা মরহুম খায়রুল বাকী মিয়া ছিলেন মুকসুদপুরের গণমানুষের নেতা। তিনি ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। প্রবীণ ভোটারদের কাছে আজও খায়রুল বাকী মিয়ার স্মৃতি আবেগ ও সম্মানের সঙ্গে উচ্চারিত হয়। বাবার সেই সুসংগঠিত ভোট ব্যাংক এবং শিমুলের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার সমন্বয় তাকে গোপালগঞ্জ-১ আসনে হেভিওয়েট প্রার্থীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত করেছে।
তবে এবারের নির্বাচন শিমুলের জন্য ভিন্ন মাত্রার চ্যালেঞ্জ নিয়ে এসেছে। বর্তমানে তিনি কারাবন্দি অবস্থায় রয়েছেন, ফলে নির্বাচনী প্রচারণার গুরুত্বপূর্ণ সময় তাকে কারাগারেই থাকতে হচ্ছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে কারাবন্দি অবস্থায় প্রার্থীদের বিজয়ের একাধিক নজির রয়েছে। অনেক সময় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে কারান্তরীণ প্রার্থীর প্রতি এক ধরনের নীরব সহানুভূতি কাজ করে। মুকসুদপুর ও কাশিয়ানী এলাকার সাধারণ মানুষের বক্তব্যেও সেই সহানুভূতির প্রতিফলন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আশরাফুল আলম শিমুল মাঠে সরাসরি উপস্থিত না থাকলেও তার জনপ্রিয়তা, সংগঠিত কর্মীবাহিনী এবং বাবার অনুসারীরা বড় ধরনের পরিবর্তনের নিয়ামক হতে পারেন। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন সবার মনে একটাই প্রশ্ন—কারাগার থেকেই কি শিমুল গড়বেন নতুন কোনো রেকর্ড, নাকি দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক শক্তিগুলো তাদের আধিপত্য বজায় রাখতে সক্ষম হবে? গোপালগঞ্জ-১ আসনের এই শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ের চূড়ান্ত উত্তর মিলবে ভোট গণনার শেষ মুহূর্তে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...