বিজ্ঞাপন
অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো তাকে ছুটিতে পাঠানোর ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় এক অভূতপূর্ব চিত্র। যেখানে শত শত শিক্ষার্থীর কোলাহলে মুখর থাকার কথা, সেখানে বিরাজ করছে সুনসান নীরবতা। শিক্ষকরা উপস্থিত থাকলেও কোনো শিক্ষার্থী ক্লাসে আসেনি। তবে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ভিড় জমিয়েছেন বিক্ষুব্ধ অভিভাবকরা। তাদের সাফ কথা—তপতী বাড়ৈর স্থায়ী বদলি না হওয়া পর্যন্ত তারা সন্তানদের স্কুলে পাঠাবেন না।
অভিভাবকদের অভিযোগ, সহকারী শিক্ষক তপতী বাড়ৈ ২০২০ সালে বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকেই নানা অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে আসছেন। সময়মতো ক্লাসে উপস্থিত না হওয়া, পাঠদানের পরিবর্তে মোবাইল ফোন ব্যবহার, শিক্ষার্থীদের প্রতি মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন, এমনকি এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের হুমকি ও হয়রানির মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
অভিভাবকরা জানান, এসব বিষয়ে একাধিক দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠিত হলেও এক মাস পার হয়ে গেলেও তার স্থায়ী বদলি বা শাস্তিমূলক কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
গতকাল সোমবার জনরোষের মুখে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মৌখিকভাবে তপতী বাড়ৈকে অন্য বিদ্যালয়ে ডেপুটেশনে বদলির আশ্বাস দিলেও তাতে পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। অভিযোগ উঠেছে, তিনি নতুন কর্মস্থলে যোগদান না করে উল্টো দুই দিনের ছুটি নিয়েছেন। প্রশাসনের এমন নমনীয় আচরণে অভিভাবকরা আরও বেশি ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন।
দীর্ঘদিন ধরে চলা এই অচলাবস্থায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন ব্যাহত হচ্ছে। অভিভাবকরা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। তারা জানিয়েছেন, শুধুমাত্র মৌখিক আশ্বাস বা সাময়িক ছুটি নয়, বরং স্থায়ী সমাধানের মাধ্যমেই বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...