বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় যুক্তরাষ্ট্রের দুই সাবেক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক আলবার্ট গোম্বিস ও মর্স ট্যানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন। আজ বুধবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বার্তায় এই বৈঠকের বিস্তারিত জানানো হয়েছে।
নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন মহলে ছড়ানো বিভ্রান্তি ও গুজব নাকচ করে দিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, "কে কী বলল, তা বিবেচ্য নয়। নির্ধারিত ১২ ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে; এর একদিন আগেও নয়, একদিন পরেও নয়।" তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে, ভোট হবে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে। নির্বাচন শেষে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের কাছে যথাযথ প্রক্রিয়ায় ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে।
প্রফেসর ইউনূস বলেন, নির্বাচনকালীন সময়ে সরকার সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকবে এবং সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করতে প্রশাসন পক্ষপাতমুক্ত রাখা হবে।
সফররত মার্কিন কূটনীতিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রধান উপদেষ্টা জানান, অন্তর্বর্তী সরকার বর্তমানে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জনগণের সম্মতি পেলে ‘জুলাই সনদ’ বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক শাসনের এক নতুন যুগের সূচনা করবে, যা ভবিষ্যতে স্বৈরশাসনের পথ চিরতরে রুদ্ধ করে দেবে।
নির্বাচন ঘিরে পরিকল্পিতভাবে ছড়িয়ে দেওয়া ভুয়া খবর ও অপতথ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের সমর্থকেরা বিভ্রান্তি ছড়াতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ভিডিও ব্যবহার করছে। তবে দেশের মানুষ এখন অনেক সচেতন এবং তারা এসব ভুয়া তথ্য শনাক্ত করতে পারছে। মার্কিন কূটনীতিক আলবার্ট গোম্বিসও একমত পোষণ করে বলেন, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান শত্রু হলো এই ভুয়া খবর।
সাক্ষাৎকালে দক্ষিণ আফ্রিকার আদলে বাংলাদেশে ‘ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন’ বা সত্য ও পুনর্মিলন উদ্যোগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। প্রফেসর ইউনূস এ প্রসঙ্গে বলেন, নেলসন ম্যান্ডেলার বন্ধু হিসেবে তিনি ওই প্রক্রিয়াটি ঘনিষ্ঠভাবে দেখেছেন। তবে বাংলাদেশে এই মুহূর্তে এর সম্ভাবনা দেখছেন না।
তিনি যুক্তি দিয়ে বলেন, "ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন তখনই সম্ভব, যখন কেউ অপরাধ স্বীকার করে অনুতপ্ত হয়। কিন্তু জুলাই অভ্যুত্থানে সংঘটিত বর্বরোচিত অপরাধের পাহাড়সম প্রমাণ থাকার পরও সাবেক ফ্যাসিস্ট শাসকগোষ্ঠী এখন পর্যন্ত কোনো অনুশোচনা প্রকাশ করেনি। বরং তারা নিহত তরুণদের সন্ত্রাসী হিসেবে আখ্যা দিয়ে সম্পূর্ণ অস্বীকারের অবস্থানে রয়েছে। তাই এখন পর্যন্ত এর জন্য উপযুক্ত সময় আসেনি।"
প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী এই বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতি এবং তরুণ আন্দোলনকারীদের উত্থানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে এসডিজি সমন্বয়ক ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোর্শেদ উপস্থিত ছিলেন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...