বিজ্ঞাপন
গত মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) লিটন সিকদার নামে এক যুবক উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দেন। তিনি শিক্ষা কর্মকর্তা উত্তম কুমার সরকারের কাছে আপত্তিকর প্রশ্ন তোলার এক পর্যায়ে টাকা দাবি করেন। শিক্ষা কর্মকর্তা এর প্রতিবাদ করলে লিটন ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে মারধর করতে উদ্যত হন। এ সময় উপস্থিত মাজড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসিফ আহমেদ বাধা দিলে তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়।
এরপর ওই যুবক সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা চঞ্চল শেখের কক্ষে ঢুকে তাকে এবং অপর সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা নবীন কুমার রায়কে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। আহত দুই শিক্ষা কর্মকর্তা পরবর্তীতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন।
তদন্তে জানা গেছে, এটিই লিটনের প্রথম অপরাধ নয়। এর আগে গত ২২ অক্টোবর বালিয়াডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রধান শিক্ষকের কাছে নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে ২০ হাজার টাকা দাবি করেছিলেন তিনি। টাকা না পেয়ে তিনি প্রধান শিক্ষককে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি প্রদান করেন।
কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে কাশিয়ানী শহীদ মিনার চত্বরে এক বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। এতে উপজেলার প্রায় ৩০০ শিক্ষক ও কর্মরত শিক্ষা কর্মকর্তারা অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা চঞ্চল শেখ, নবীন কুমার রায়, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি কাশিয়ানী শাখার সভাপতি জিয়াউর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মনিরুল চৌধুরী প্রমুখ। বক্তারা বলেন, "শিক্ষকরা মানুষ গড়ার কারিগর। তাঁদের ওপর এই হামলা অত্যন্ত দুঃখজনক। অবিলম্বে লিটন শিকদারকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচী ঘোষণা করা হবে।"
কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজুর রহমান মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, "প্রাথমিক তদন্তে টাকা দাবি ও শিক্ষা কর্মকর্তাদের লাঞ্ছিত করার সত্যতা পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত লিটনকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান শুরু হয়েছে। প্রধান শিক্ষকের সাথে ঘটে যাওয়া আগের ঘটনাটিও আমরা গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছি।"
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...