বিজ্ঞাপন
জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল ও পঞ্চম এলডিসি সম্মেলনের মহাসচিব রাবাব ফাতিমার নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটির চলতি মাসে ঢাকায় আসার কথা ছিল। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আগামী মাসে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এই সফর অনুষ্ঠিত হতে পারে। বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান জানিয়েছেন, জাতিসংঘ এই দফায় না আসলেও তাদের মূল্যায়ন প্রতিবেদনটি সময়মতো পাওয়া যাবে এবং প্রক্রিয়াটি ধীরে ধীরে এগোবে।
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আনিসুজ্জামান চৌধুরী জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বরই এলডিসি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক আছে। অন্তর্বর্তী সরকার উত্তরণ পেছানোর কোনো আবেদন করবে না; তবে নির্বাচিত সরকার চাইলে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, উত্তরণ পেছাতে হলে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ৫১ শতাংশ সদস্য দেশের ভোট পেতে হবে, যা অত্যন্ত চ্যলেঞ্জিং।
এদিকে দেশের শীর্ষ ১৬টি ব্যবসায়ী সংগঠন (এফবিসিসিআই, বিজিএমইএ, আইসিসিবিসহ) একযোগে এলডিসি উত্তরণ অন্তত তিন বছর পেছানোর দাবি জানিয়ে আসছে। ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, এলডিসি থেকে বের হলে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার শুল্কমুক্ত সুবিধা আর থাকবে না, ফলে রপ্তানি ৬ থেকে ১৪ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে।
বাংলাদেশ নিট পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সাবেক সভাপতি মো. ফজলুল হক বলেন, “আমাদের প্রস্তুতির বড় ঘাটতি রয়েছে। অন্যদের দেশে ব্যাংক ঋণের সুদ ৫ শতাংশের নিচে হলেও আমাদের এখানে প্রায় ১৫ শতাংশ। এছাড়া নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি, সুশাসন ও অবকাঠামোর ঘাটতি রেখে উত্তরণ হলে তা দেশের জন্য লাভজনক হবে না।”
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এলডিসি উত্তরণের বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ইতিবাচক নয়। অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিয়ম অনুযায়ী, জোটভুক্ত ২৭টি দেশের কোনো একটি দেশও যদি বিরোধিতা করে, তবে তা সম্মিলিত বিরোধিতা হিসেবে গণ্য হবে। এমন বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে উত্তরণ পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পথনকশা তৈরির চেষ্টা করছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে তিনটি সূচকে উত্তীর্ণ হয়ে বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জন করেছিল এবং ২০২১ সালে জাতিসংঘ ২০২৬ সালের নভেম্বরে চূড়ান্ত উত্তরণের সুপারিশ করে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...