ছবিতে ডান পাশে অভিযুক্ত আ. লীগ নেতা রিয়াজ মৃধা।
বিজ্ঞাপন
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী জহিরুলের স্ত্রী মোসা. সুলতানা বেগম আমতলী উপজেলা বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। বিজ্ঞ আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে তালতলী থানাকে এফআইআর (এজাহার) হিসেবে গণ্য করার নির্দেশ প্রদান করেছেন।
মামলার আসামিরা হলেন— মো. জাফর (৪০), ইব্রাহিম (৪৫), মো. রিয়াজ (৩৫), মোহাম্মদ লিটন (৫০), ছগির (৩০), মোহাম্মদ সাইদুল (৩০), মোহাম্মদ আরিফ (৩০), মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম মাজা (৩০) ও মুহাম্মদ সোবাহান (৬০)। মামলার এজাহারে আসামিদের বিরুদ্ধে এলাকায় চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার বিবরণীতে সুলতানা বেগম উল্লেখ করেন, তাঁর স্বামী জহিরুল ভেকু চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে তাঁর কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। ঘটনার দিন আসামিরা জহিরুলকে ঘিরে ধরে এক লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় ২নং আসামি ইব্রাহিমের হুকুমে ১নং আসামি জাফর ধারালো অস্ত্র দিয়ে জহিরুলের মাথায় আঘাত করে।
হামলায় জহিরুলের মাথার হাড় ভেঙে রক্তাক্ত জখম হয়। এ সময় অন্যান্য আসামিরা লোহার রড ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে তাঁর নাকের হাড় ভেঙে দেয় এবং দাঁত ফেলে দেয়। এছাড়াও বুকের ওপর পিটিয়ে ফুসফুস ও হৃদপিণ্ডে মারাত্মক জখম করা হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, প্রভাবশালী আসামিরা মামলা করার পর থেকেই সুলতানা বেগম ও তাঁর স্বামীকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে। মামলার সাক্ষীদেরও বিভিন্নভাবে এলাকা ছাড়ার ভয়ভীতি ও হয়রানি করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
জীবনসংকটাপন্ন অবস্থায় বসবাস করা এই পরিবারটি বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে তারা শঙ্কা প্রকাশ করেছেন এবং প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...