Logo Logo

১৮ দিন গোপালগঞ্জের ৬ হাসপাতালে নেই জলাতংকের ভ্যাকসিন


Splash Image

গোপালগঞ্জে জীবন রক্ষাকারী অ্যান্টি-র‍্যাবিস ভ্যাকসিনের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। গত ১৮ দিন ধরে জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে এই ভ্যাকসিনের সরবরাহ বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষ চরম স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়েছেন। অন্যদিকে, ওষুধের দোকানগুলোতেও মিলছে না এই ভ্যাকসিন; আর কোথাও পাওয়া গেলেও তা বিক্রি হচ্ছে কয়েক গুণ বেশি দামে।


বিজ্ঞাপন


জলাতঙ্ক একটি প্রাণঘাতী রোগ, যার লক্ষণ প্রকাশ পেলে মৃত্যু প্রায় অনিবার্য। কুকুর, বিড়াল বা বন্যপ্রাণীর কামড় বা আঁচড় থেকে এই ভাইরাস ছড়ায়। কামড়ানোর এক সপ্তাহ থেকে এক বছরের মধ্যে লক্ষণ প্রকাশ পেতে পারে। পানিভীতি, খিঁচুনি এবং অস্বাভাবিক আচরণের মতো উপসর্গ দেখা দেওয়া এই রোগ থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় অ্যান্টি-র‍্যাবিস ভ্যাকসিন।

গোপালগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলায় প্রতি মাসে ৬টি সরকারি হাসপাতালের মাধ্যমে প্রায় ৬ হাজার ভ্যাকসিন বিনামূল্যে সরবরাহ করা হতো। গড়ে প্রতিদিন প্রায় ২০০ মানুষ এই সেবা পেতেন। কিন্তু গত ১৭-১৮ দিন ধরে সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় রোগীরা হাসপাতাল থেকে ফিরে যাচ্ছেন।

সদর উপজেলার চন্দ্রদিঘলিয়া গ্রামের মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, তাঁর ছেলেকে কুকুরে কামড়ানোর পর হাসপাতালে গিয়েও ভ্যাকসিন পাননি। অনেক খোঁজাখুঁজির পর ৫০০ টাকার ভ্যাকসিন ৮০০ টাকায় একটি ফার্মেসি থেকে কিনতে বাধ্য হয়েছেন তিনি। উরফি গ্রামের হোসনে আরা বেগমও একই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানান।

শহরের বাতাসাপট্টি এলাকার ওষুধের দোকানদার অমিত ঘোষ জানান, উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলো গত ছয় মাস ধরে অ্যান্টি-র‍্যাবিস ভ্যাকসিন সরবরাহ করছে না। ফলে ফার্মেসিগুলোতেও দীর্ঘদিনের সংকট বিরাজ করছে।

গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. জীবিতেষ বিশ্বাস বলেন, "আগে ৬০০-৭০০ ভ্যাকসিন পাওয়া যেত, পরে তা কমে ২০০-৩০০ তে নেমে আসে। বর্তমানে সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছি।"

গোপালগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. আবু সাইদ মোহাম্মদ ফারুক ভ্যাকসিন সংকটের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, "সরবরাহ স্বাভাবিক করতে আমরা কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। আশা করছি দ্রুতই সমাধান হবে। এছাড়া বাজার নিয়ন্ত্রণে আমরা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করব যেন কেউ ভ্যাকসিনের বাড়তি দাম নিতে না পারে।"

ভ্যাকসিন সংকটের এই দীর্ঘসূত্রতা জেলার হাজার হাজার মানুষকে জলাতঙ্কের ঝুঁকিতে ফেলে দিয়েছে। ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে সরকারি হাসপাতালগুলোতে নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...