Logo Logo

তাড়াশে ৫০০ বছরের ‘ইমামবাড়ি’ সংরক্ষণের দাবি


Splash Image

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে প্রায় ৫০০ বছরের ঐতিহাসিক স্থাপনা ‘ইমামবাড়ি’ দখল, অযত্ন, অবহেলা আর সংস্কার‌রে অভা‌বে আজ ধ্বং‌সের দারপ্রা‌ন্তে উপ‌নিত হ‌য়ে‌ছে।


বিজ্ঞাপন


মুগল সম্রাট জাহাঙ্গীরের পৃষ্ঠপোষকতায় নির্মিত এই বা‌ড়ি‌টি কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ঐতিহাসিক এই বা‌ড়ি‌টি ছিল ইসলাম প্রচারের অন্যতম কেন্দ্র।

সুফি-সাধক হযরত শাহ ইমামের (রহঃ) স্মৃতিবিজড়িত এই কারুকার্যখচিত স্থাপনাটি আজ অযত্ন, অবহেলা আর সংরক্ষণের অভাবে তার জৌলুস হারিয়ে ইট-সুরকির ভগ্নস্তূপ আর লতাপাতার জঞ্জালে ঢেকে গে‌ছে।

ঐতিহাসিক এই স্মৃতিচিহ্নটি রক্ষায় স্থানীয়রা জোর দাবি জানিয়েছেন। তা‌দের প্রত্যাশা, প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপের মাধ্যমে ৫০০ বছরের পুরোনো এই ঐতিহাসিক ইমামবাড়িটি সংরক্ষণ করবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এর ইতিহাস অক্ষুণ্ণ রাখ‌তে ব‌্যবস্থা নে‌বে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সংস্কারের অভাবে পুরোনো ইমামবাড়ির একটি মসজিদ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। শুধু গম্বুজের মতো ছোট একটি ঘর ঠাঁয় দাঁড়িয়ে থাকলেও সেটিও গাছের নিচে ঢাকা পড়েছে। কারুকার্য খচিত জরাজীর্ণ দেওয়ালে বেড়ে উঠেছে লতাপাতা, যা স্থাপনাটির ভগ্নদশা আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

জানা যায়, হযরত শাহ ইমামের (রহ.) জন্ম ইয়েমেনে। তিনি ১৫ শতকের দিকে ইসলাম প্রচারে আসার পর চলনবিলের নিভৃত পল্লি বারুহাস গ্রামে অবস্থান করেন। এ অঞ্চলের অধিবাসীরা ছিল হিন্দু সম্প্রদায়ের। তিনি তাদের মধ্য ইসলামের বাণী ও আদর্শ প্রচার করেন। অনেকে ইসলাম গ্রহণ করেন। তিনি চলনবিলের উত্তর ও মধ্যম স্থানকে ইসলাম প্রচারের জন্য বেছে নেন।

সেসময় চতুর্থ মোগল সম্রাট জাহাঙ্গীর ক্ষমতায় আসীন হয়ে বিভিন্ন অঞ্চল পরিদর্শন করেন। সেই সুবাধে চলনবিলের পরগনা পরিদর্শনে আসেন। কর্মকর্তাদের কাছে জানতে পারেন বারুহাস গ্রামে অবস্থান করছেন ইয়েমেন থেকে আসা ধর্মপ্রচারক। পরে তিনি সাক্ষাতের ইচ্ছা পোষণ করলে পানিতে ঘেরা একটি উন্মুক্ত ভিটায় জুব্বা-পাগড়িপরা শাহ ইমামকে (রহ.) লক্ষ্য করে জলযান সেখানে ভেড়ানো হয়।

ইসলাম প্রচারককে সম্রাট সাদরে অর্ভ্যথনা জানান। সম্রাট জাহাঙ্গীর এ অঞ্চলে ইসলাম প্রচারের অগ্রতিতে সেখানে একটি মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নেন। শাহ ইমামের (রহ.) এবাদতের জন্য কয়েকটি পাকা ঘর নির্মাণ ও পুকুর খনন করারও ব্যবস্থা করেন। এ ছাড়া ইসলাম প্রচারের জন্য তাকে ৮০ একর জায়গা করমুক্ত হিসেবে দান করেন। জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত তিনি সেখানেই বসবাস করেন। ধ্বংসপ্রাপ্ত মসজিদের পূর্ব-উত্তর পাশে তার ও কয়েকজন শিষ্যের কবর আছে।

বারুহাস গ্রামের স্থানীয়রা জানান, শুধু স্থাপনা নয়, ইমামবাড়ির সঙ্গে জড়িত অন্যান্য স্মৃতিচিহ্নও দখল হয়ে যাচ্ছে। ইমামবাড়ির সবগুলো স্থাপনাই বিলুপ্ত হয়ে গেছে। সমাধির সামনে সাড়ে আট বিঘা আয়তনের একটি পুকুর আছে। সেটিও স্থানীয় প্রভাবশালীরা দখল করে নিয়েছে।

ঐতিহাসিক এই স্থাপনা ও এর সঙ্গে জড়িত জমি উদ্ধারের জন্য স্থানীয়রা দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছেন। তাদের দাবি, সরকারিভাবে জায়গাগুলো উদ্ধার ও স্থাপনাগুলো পুনর্নির্মাণ করে হজরত শাহ ইমামের (রহ.) স্মৃতি সংরক্ষণ করা হোক। এটি শুধু একটি ধর্মীয় স্থান নয় বরং চলনবিলের ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুসরাত জাহান বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে খোঁজ-খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...