Logo Logo

কবিরহাটে যুবককে পিটিয়ে হত্যা, বিএনপি নেতাসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা


Splash Image

নরোত্তমপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক মাসুদ।

নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় পূর্বশত্রুতার জেরে মিজানুর রহমান ওরফে রনি (৩৫) নামে এক যুবককে ‘ডাকাত’ আখ্যা দিয়ে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় উপজেলার নরোত্তমপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক মাসুদসহ ৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৫-২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।


বিজ্ঞাপন


মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নিজাম উদ্দিন ভূঁঞা মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে, গত শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাত ১০টার দিকে উপজেলার নরোত্তমপুর ইউনিয়নের কালিরহাট বাজারসংলগ্ন কাজী বাড়ির সামনের সড়কে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

নিহত মিজান কবিরহাট পৌরসভার জৈনদপুর এলাকার মো. শহীদের ছেলে। তিনি দুই সন্তানের জনক এবং পেশায় প্রজেক্ট ও মুরগির খামারের ব্যবসায়ী ছিলেন। নিহতের স্বজনদের দাবি, ৫ শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধের জেরে গত ১০ জানুয়ারি মিজানের শ্বশুর ও শ্যালকের ওপর হামলা হয়। ওই ঘটনার প্রতিবাদ করায় মিজানের ওপর ক্ষুব্ধ ছিল স্থানীয় একটি প্রভাবশালী পক্ষ।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যায় দুই ব্যক্তি মিজানকে জরুরি কাজের কথা বলে ডেকে নিয়ে যায়। এর আগে বিএনপি নেতা মাসুদ মিজানের ভগ্নিপতি আবু তাহেরকে হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার রাতে কালিরহাট বাজারে মাছের প্রজেক্টের স্ট্যাম্প ও পাওনা ১ লাখ ৮৫ হাজার টাকা ফেরত চাওয়া নিয়ে মাসুদের সাথে মিজানের বাকবিতণ্ডা হয়।

একপর্যায়ে অভিযুক্ত এনামুল হক মাসুদ, যুবদল নেতা হাফিজ উদ্দিন, আলেম, অন্তর, কাশেম, জোবায়েদ, মো. আসিফ ও মিরণসহ ১৫-২০ জন মিলে মিজানকে ঘিরে ধরে মুখ ও মাথায় গুরুতর আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। হত্যাকাণ্ডের পর মরদেহ সড়কে ফেলে খুনিরা পালিয়ে যায়। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, হত্যার পর মিজানকে ‘ডাকাত’ আখ্যা দিয়ে বাজারে মিষ্টি বিতরণ করে হামলাকারীরা।

অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান আসামি এনামুল হক মাসুদ বলেন, “আমি এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই। গণপিটুনিতে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার সময় আমি আমার দোকানে ছিলাম।”

কবিরহাট থানার ওসি মো. নিজাম উদ্দিন ভূঁঞা জানান, নিহতের স্ত্রী সিমা বাদী হয়ে সোমবার রাতে থানায় মামলাটি দায়ের করেন (মামলা নং-১০)। তিনি বলেন, “মামলায় ৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা অনেককে আসামি করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

নিহতের স্বজনেরা জানিয়েছেন, তাড়াহুড়োর কারণে এজাহারে কয়েকজন অভিযুক্তের নাম বাদ পড়েছে, যা পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হবে। এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে নরোত্তমপুর এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...