বিজ্ঞাপন
দুদকের একটি বিশেষ টিম প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী অভিযানে ড্রিম মাশরুম ভ্যালির বিভিন্ন নথিপত্র, প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত বিল-ভাউচার এবং আর্থিক লেনদেনের তথ্য যাচাই করে।
বিশ্বব্যাংক ও সরকারের যৌথ অর্থায়নে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন 'পার্টনার-ডিএএম' প্রকল্পের আওতায় ১২ দিনের ‘অন দ্য জব’ প্রশিক্ষণ নিয়ে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ওঠার প্রেক্ষিতে এই অভিযান চালানো হয়।
প্রকল্পের নীতিমালা অনুযায়ী প্রশিক্ষণ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে হওয়ার কথা থাকলেও প্রশিক্ষণার্থীদের কাছ থেকে ‘পিকনিক’ বাবদ জনপ্রতি ৩০০ টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। ২৫ জনের একটি ব্যাচ থেকে প্রায় ৯ হাজার টাকা তুলে তাদের ঝিনাইদহের একটি পর্যটন কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। এছাড়া ১২ দিনের প্রশিক্ষণ ১১ দিনেই শেষ করা, নির্ধারিত প্রশিক্ষক ছাড়াই ড্রিম মাশরুম ভ্যালির মালিক বাবুলের ক্লাস নেওয়া এবং নিম্নমানের খাবার ও উপকরণ সরবরাহের অভিযোগ করেছেন আসমা আক্তার, খাদিজা আক্তার ও সৌরভ কুমার বিশ্বাসসহ বেশ কয়েকজন উদ্যোক্তা। তারা জানান, বরাদ্দের ব্যাগ, এপ্রোন ও টি-শার্টও অনেকে পাননি।
মাগুরায় ৪০০ জনের প্রশিক্ষণের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও দেওয়া হচ্ছে ৩০০ জনকে। অবাক করার বিষয় হলো, ২০২৪ সালে প্রকল্প শুরু হলেও শালিখা উপজেলাকে ধারাবাহিকভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে।
জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা (দায়িত্বপ্রাপ্ত) মোঃ রবিউল ইসলাম স্বীকার করেছেন যে, প্রশিক্ষণের মান নিয়ে কিছু প্রশ্ন উঠেছে এবং সব ক্ষেত্রে নীতিমালা শতভাগ মানা সম্ভব হচ্ছে না।
অভিযানের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ড্রিম মাশরুম ভ্যালির মালিক বাবুলের হঠাৎ অস্বাভাবিক সম্পদ বৃদ্ধি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, সাবেক আনসার সদস্যের ছেলে বাবুল অল্প সময়ে শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে পরিচিত বাবুল অতীতে বিভিন্ন সরকারি প্রণোদনা ও বঙ্গবন্ধু সংশ্লিষ্ট কৃষি প্রকল্পের বিপুল সুবিধা ভোগ করেছেন। সাধারণ মাশরুম ব্যবসা থেকে কীভাবে এত বিপুল বিত্ত-বৈভব অর্জিত হলো, তা খতিয়ে দেখার জোর দাবি উঠেছে।
এ বিষয়ে বাবুল বলেন, “৮-৯ লাখ টাকার বিভিন্ন বিল তুলেছি।” তবে তিনি সম্পদের উৎস বা বৈধ প্রশিক্ষকের কোনো তালিকা দেখাতে পারেননি।
কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের সিনিয়র কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, ৬৪ জেলায় ৭৬০ কোটি টাকার এই মেগা প্রকল্পটি সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরকারি প্রকল্পের সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের হঠাৎ সম্পদ বৃদ্ধি এবং প্রশিক্ষণে অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করা জরুরি।
দুদকের এই অভিযানে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। মাগুরাবাসীর প্রত্যাশা, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সরকারি অর্থের সঠিক জবাবদিহি এবং দুর্নীতির সাথে জড়িতদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত হবে।
প্রতিবেদক- মোঃ রাজিব হোসেন, মাগুরা।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...